Tuesday 25th of September 2018 09:08:59 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্রেতা নেই, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকান

February 19, 2016, 9:29 PM, Hits: 269

 

এনজেবিডি নিউজ : রাজধানীর প্রথম আধুনিক শপিং মল ইস্টার্ন প্লাজা। ১৯৯২ সালের জানুয়ারি মাসে যাত্রা শুরুর সময় থেকে ঢাকার অভিজাত শ্রেণির ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ ছিল এ মার্কেট। ক্রেতায় গমগম করতো। কেনাবেচা ছিল রমরমা। ইস্টার্ন প্লাজায় কেনাকাটা আর ঘুরে বেড়ানো ছিল অনেকের শখ। কিন্তু মার্কেটটির সেই সোনালী দিন এখন আর নেই। ক্রেতা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় ধুঁকছেন ব্যবাসায়ীরা। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক দোকান। বদল হচ্ছে মালিকানা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল মার্কেট চালু হওয়ায় কদর কমেছে এ মার্কেটের। সঙ্গে যোগ হয়েছে পারিপার্শ্বিক অবস্থা। তারা জানিয়েছেন, মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় দিনভর যানজট, সার্ক ফোয়ারা থেকে সোজা দক্ষিণের সড়ক বন্ধ করে দেয়ার কারণে ক্রেতা কমেছে এ মার্কেটের। ইস্টার্ন প্লাজা দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মীর মো. আবদুল্লাহ মানবজমনিকে বলেন, এখানে সবার লক্ষ্য ব্যবসা করা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বেচা-কেনায় চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা আসতে পারে না। ফলে আগের মতো আর জমজমাট হয়ে উঠে না এই শপিং মলটি। এর কারণ এই মার্কেটে আসার রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ক্রেতা সাধারণ আসতে পারেন না, অন্যদিকে তেমনি জনসাধারণও ভোগান্তিতে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তানজিলা কসমেটিকসের স্বত্বাধিকারী আবু সৈয়দ দোকানের টুলে বসে ছিলেন। তিনি এই শপিং মল চালু হওয়ার পর থেকেই ব্যবসা করছেন। কেমন চলছে ব্যবসা? রাখঢাক না করেই এই ব্যবসায়ী বললেন, এই মার্কেট যখন চালু হয় তখন দৈনিক বিক্রি হতো ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন সেখানে ১০ হাজার টাকাও বিক্রি হয় না। তাছাড়া ঢাকার বাইরের পাইকারি ক্রেতারা আর আসেন না। চাহিদা কমে গেছে। মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ফ্যাশন কর্নারের মালিক আবদুল করিম। তিনি এই মার্কেট চালু হওয়ার পর প্রথমে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তিনি নিজেই পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি জানান, শুরুর দিকে ভালোই বেচা-বিক্রি হতো। লাভ হতো। কিন্তু এখন কোন কোন মাসে ক্ষতির হিসাব গুনতে হয় তাকে। তবে ক্ষতি হলেও ব্যবসা ছাড়তে পারছেন ভবিষ্যৎ ভেবে। মার্কেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত মোবাইল মার্কেট। এখানে অন্য ফ্লোরের চেয়ে বেচা-বিক্রি ভালো বলে জানিয়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী। তবে আগের তুলনায় তাদেরও বিক্রি কমেছে বলে জানান তারা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মালিক কবির নাওয়াজ মানবজমিনকে বলেন, মার্কেটের বেচা-বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। আগে যেখানে দৈনিক ১০ হাজার লোকের সমাগম হতো, বর্তমানে সেখানে ৩ হাজারও হয় না। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বেশ বিপদে আছেন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কাওরান বাজার থেকে ইস্টার্ন প্লাজায় আসতে সার্ক ফোয়ারার মুখের রাস্তাটি কয়েক মাস ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে এই রোড়ের ইস্টার্ন প্লাজাসহ সব দোকান-পাট ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অবিলম্বে রাস্তাটি খুলে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন তিনি। মার্কেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যবসার দুরবস্থার কারণে এ পর্যন্ত ৮০টির মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বদল হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে গেছে। মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ। এর কোন কোনটিতে ভাড়ার নোটিশ লাগানো আছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ব্যবসা ভালো না হওয়ায় দোকানের মূল মালিক যারা শুরুর দিকে নিজেই ব্যবসা শুরু করেছিলেন এখন তাদের অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে দোকান ভাড়া দিচ্ছেন।
ইস্টার্ন প্লাজা দোকান মালিক সমবায় সমিতির নেতারা জানান, মার্কেটের দুই ধারে অনেক টাইলসের দোকান রয়েছে। তারা আবার রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড করে। যানজটের ভয়ে কেউ এই রাস্তায় আসতেই চান না। ফলে এসবের বিশাল প্রভাব পড়ছে ইস্টার্ন প্লাজার ব্যবসায়। এই এলাকায় হাতিরপুল বাজার থেকে কাঁঠাল বাগান ঢাল পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে কয়েক হাজার দোকান রয়েছে। এদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, পান্থকুঞ্জে রোডটি বন্ধ করে দেয়ায় ক্রেতারা এই এলাকায় আসতে পারে না। ফলে আমাদের মোটা অঙ্কের বেচা-বিক্রি কমে গেছে বলে তারা জানান। ১৯৯২ সালের জানুয়ারি মাসে ইস্টার্ন প্লাজা যাত্রা শুরু করে। শপিং মলটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন, এস্কেলেটর সুবিধা, নিজস্ব স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর সুবিধাসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মার্কেটটিতে দেশি-বিদেশি সব প্রকার ব্র্যান্ডের দোকান ও শো-রুম রয়েছে। মার্কেটটির প্রথম তলায় প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক, থালা বাসন। দ্বিতীয় তলায় শাড়ি, টি-শার্ট, টেইলার্স। তৃতীয় তলায় গয়না, সোনা, রুপা, বাচ্চাদের খেলনার দোকান। চতুর্থ তলায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতার দোকান। পঞ্চম তলায় মোবাইলের দোকান এবং মোবাইল সার্ভিসিং। ষষ্ঠ তলায় দোকান মালিক সমিতি অফিস। সপ্তম তলায় ডাক্তার চেম্বার এবং অষ্টম তলায় ডাক্তার চেম্বার ও অফিস রয়েছে।