Tuesday 25th of September 2018 08:35:43 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

শেষ শুক্রবারে ক্রেতার ঢল

February 26, 2016, 8:21 PM, Hits: 264

 

এনজেবিডি নিউজ : সকালটা ছিল শিশুদের। সিসিমপুরের হালুম, টুকটুকি আর ইকরিদের সঙ্গে দারুণ সময় পার করেছে শিশুরা। আর বিকেলটা যথারীতি নিজেদের করে নিয়েছে সব বয়সের মানুষ। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলার দরজা খুলে যায় সকালেই। এই সময়টাতে হালকা ভিড় থাকলেও বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রীতিমতো ঢল নামে ক্রেতা-দর্শনার্থীর। ভিড়ের আরেকটি কারণও সহজেই অনুমেয়। এবারের আয়োজনে গতকালই ছিল শেষ শুক্রবার। বিকেল ৫টার দিকে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে প্রবেশের সারি ছাড়িয়ে যায় উত্তর দিকে টিএসসি আর দক্ষিণ দিকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে মেলায় প্রবেশ করেই সবাই ছুটে যায় স্টলে স্টলে।

ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৪টা। ততক্ষণে অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী অংশে মানুষের ঢল নেমেছে। প্রবেশপথগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। ঠিক তখনই বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের মাইকে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানানো হয়। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে যান। ক্রেতা-দর্শনার্থী ও প্রকাশকরা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেন ঘাতকের হাতে নিহত এই লেখককে।

গত বছর বইমেলার ২৬তম দিনে মেলা থেকে ফেরার পথে উগ্রবাদীদের চাপাতির কোপে নির্মমভাবে নিহত হন লেখক অভিজিৎ রায়। এ সময় সঙ্গে থাকা তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর জখম হন।

গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অভিজিৎ রায়কে স্মরণ করে একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক চক্র মুক্তবুদ্ধির লেখকদের হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে অন্ধকারের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।’

প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বর অভিজিৎ রায়ের চারটি বই প্রকাশ করেছিল। দুটি একক ও দুটি যৌথ লেখা। বই চারটি হলো ‘সমকামিতা’ ও ‘ভালোবাসা কারে কয়’ এবং ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ ও ‘শূন্য থেকে মহাবিশ্ব’। স্টলের সামনেই সাজানো ছিল বইগুলো। অভিজিৎ স্মরণে এ স্টলের দেয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়েছে দুটি ছোট্ট ব্যানার। একটিতে লেখা ‘জাস্টিস ফর অভিজিৎ’, অন্যটিতে ‘ওয়ার্ডস ডোন্ট কিল, পিপল ডু’।

প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের স্টলে এসেই এক ক্রেতা চাইলেন অভিজিৎ রায়ের বই। বিক্রয়কর্মী দেখিয়ে দিলেন সাজানো অংশটি। রাজীব বিশ্বাস নামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এই ক্রেতা বই নেড়েচেড়ে দেখার ফাঁকে বললেন, ‘যারা মেরেছে তারা অভিজিৎ রায়ের বই পড়েইনি। শুধুই অন্ধতার বশে এ হত্যা মেনে নেওয়া যায় না।’

কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন অভিজিৎ হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অভিজিতের কথা ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়। এখনো বিচার হলো না, এখনো মামলাটির অগ্রগতি হলো না—এ খুবই দুঃখজনক। যত দ্রুত সম্ভব এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব লেখকের উচিত এমনভাবে লেখা যাতে মানুষের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেওয়া না হয়ে যায়।’

মেলা প্রকাশকদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি : আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৭ সাল থেকে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের দায়িত্ব প্রকাশকদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। মেলার বাকি তিন দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সমিতির সভাপতি ওসমান গনি। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক মিলনকান্তি নাথ। আরো বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক ও চারুলিপি প্রকাশনের হুমায়ূন কবির। লিখিত বক্তব্যে মেলার নানা অসংগতি তুলে ধরা হয়, যা এরই মধ্যে একাডেমির কাছে লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মুক্তচিন্তার লেখক অভিজিৎ রায় ও জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে খুন এবং শুদ্ধস্বরের আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলকে হত্যাচেষ্টার বিচার দাবি করে ওসমান গনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সৃষ্টিশীলতা ও মুক্তচিন্তার পথে বাধা।

প্রকাশকদের হাতে মেলা ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকাশকরা এখন মেলা করতে সক্ষম। আমরা ছয় বছর ধরে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন করে আসছি। সুতরাং এখন একাডেমির উচিত মেলা আমাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজের গবেষণাকাজে মনোযোগ দেওয়া।’

এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘তাদের এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তারা যদি সত্যিই এ দায়িত্ব নিতে চায় তাহলে খুবই ভালো হবে।’

মুখর শিশুপ্রহর : গতকাল ছিল এবারের মেলার শেষ শিশুপ্রহর। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় উন্মুক্ত হয় মেলার দ্বার। দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুরা অভিভাবকদের হাত ধরে মেলায় প্রবেশ করে এবং পছন্দমতো বই কিনে ঘরে ফিরে যায়। আর তাদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিসিমপুর বটতলা। সেখানে দারুণ আনন্দমুখর সময় পার করেছে শিশুরা। সিসিমপুরের বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওয়াটারমার্কের প্রধান নির্বাহী জাকারিয়া পলাশ বলেন, ‘শিশুদের বইমেলায় বাড়তি আনন্দ দিতে সিসিমপুর এই আয়োজন করেছে। শিশুদের আনন্দই আসলে আমাদের মূল অর্জন।’

একাডেমির তথ্য মতে, গতকাল নতুন বই এসেছে ১৯৬টি। এর মধ্য থেকে চারটি বইয়ের তথ্য-পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

বিকলাঙ্গ দীর্ঘশ্বাসগুলো : কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতার বই এটি। ষাটের দশকের অন্যতম কবিদের একজন তিনি। কবিতার পাশাপাশি অনুবাদ, সম্পাদনা, শিশুসাহিত্য রচনায়ও সিদ্ধহস্ত এই কবি। একই সঙ্গে সাহিত্যের নানা শাখায় রয়েছে তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর কবিতা সহজ, বোধগম্য, প্রাকৃতিক ও সমাজসচেতন। রাষ্ট্র ও মানুষের অন্তর্গত ধ্বনি তাঁর কবিতার ধমনীতে প্রবাহিত। বইটি প্রকাশ করেছে বটেশ্বর বর্ণন। প্রচ্ছদ করেছেন এ কে এম খালেকুজ্জামান। দাম ১০০ টাকা।

পৌরাণিক-সাম্প্রতিক : সনত্কুমার সাহার প্রবন্ধগ্রন্থ এটি। দেশের খ্যাতনামা প্রাবন্ধিক ও ভাবুক। তাঁর ভাবনার পরিধি ব্যাপক। রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় বিষয় হলেও এ বইয়ে রামায়ণ ও উপনিষদের মর্মবাণীকে তিনি নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। গ্রন্থভুক্ত অন্যান্য প্রবন্ধে তিনি তুলে ধরেছেন সাম্প্রতিক সাহিত্যের নানা দিকও। বইটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ করেছেন রফিকুন নবী। দাম ৫৬০ টাকা।

গল্পসমগ্র : বইটির লেখক কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী। সত্তরের দশকে তিনি ‘টুকা কাহিনী’ লিখে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক মর্মস্পর্শী গল্প লিখেছেন। মূলত গল্পকার তিনি। গল্পই তাঁর সাধনার মূল অভিপ্রায়। বিভিন্ন সময়ে লেখা তাঁর এ গল্পগুলো প্রকৃত পাঠকের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয় সংগ্রহ। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। দাম ৪০০ টাকা।

বাজারজাতকরণ দর্শন ও প্রযুক্তির অব্যবসায়িক প্রয়োগ : মার্কেটিং-বিষয়ক এ বইয়ের লেখক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। পেশাগত জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, মার্কেটিংসহ নানা বিষয়ের বিশ্লেষক। বইটিতে তিনি আধুনিক মার্কেটিং ব্যবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরেছেন। রয়েছে সমাজ, যোগাযোগসহ পরিবর্তনশীল পৃথিবীর নানা তথ্য-উপাত্তও। বইটি প্রকাশ করেছে মেরিট ফেয়ার প্রকাশন। দাম ৩০০ টাকা।

অন্যান্য নতুন বই : মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে লুৎফর চৌধুরীর উপন্যাস ‘একাত্তর’ এনেছে শিখা প্রকাশনী। তামান্না জেসমিনের কবিতার বই ‘চারপাশ’ এনেছে স্বরব্যঞ্জন। জয়তী এনেছে ওমর ফারুক চৌধুরীর ‘শান্তির বিশ্বনেতা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’, ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’, বেহুলা বাংলা এনেছে মোহিত উল আলমের ‘গ্রেনেড’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক উপন্যাস’ ও সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা’, বলাকা প্রকাশনী এনেছে শরীফা বুলবুলের ‘বীরাঙ্গনা নয় মুক্তিযোদ্ধা’, চন্দ্রছাপ এনেছে আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘দশ রঙের ছড়া’, চর্চা গ্রন্থপ্রকাশ এনেছে যতীন সরকারের ‘বাংলার লোক সংস্কৃতি বিষয়ক প্রবন্ধ’ ইত্যাদি। প্রবাসী লেখিকা নাদিরা মজুমদারের বই ‘আইনস্টাইন সুপারস্টার’ এসেছে মেলায়। প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। এই লেখিকার ‘এক মেরু বনাম বহু মেরু’ বইয়ের প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স।

মূল মঞ্চের আয়োজন : গতকাল বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘২০২১ সালের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। আলোচনায় অংশ নেন ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও রাশিদ আশকারী। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন লাবণ্য আহমেদের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গীতিমালিকা’র শিল্পীরা। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, আবদুল জাব্বার, তিমির নন্দী, মনোরঞ্জন ঘোষাল, নমিতা ঘোষ, শিবু রায়, বিশ্বজিৎ রায়, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চৌধুরী, শফিউল আলম রাজা, পল্লবী সরকার মালতী ও আরিফ রহমান।

আজ শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং শেষ হবে যথারীতি রাত ৮টায়। বিকেল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘ছয় দফার পঞ্চাশ বছর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।