Monday 16th of July 2018 06:22:55 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের সমকামীরা

May 18, 2016, 5:39 AM, Hits: 630

 

এনজেবিডি নিউজ : সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাস মান্নান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলাদেশের অন্য সমকামীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে প্রতিটি দিন-রাত। এমনকি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এখন আর সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলহাজ ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে হত্যার পরপরই সমকামী কমিউনিটির অনেক সদস্যই আত্মগোপণে চলে গেছেন। কেউ কেউ বাসাও পরিবর্তন করেছেন, কেউ আবার গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। 

জুলহাস ও তনয়কে হত্যার পরপরই তাদের আরেক বন্ধুকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। হাতে লেখা চিঠিতে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে তোমার পাপের স্বীকারোক্তি করে নাও, ইচ্ছেমতো খাওয়া-দাওয়া করে নাও। কারণ কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।’

বাংলাদেশ ব্লগার, শিক্ষক এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর সম্প্রতি একাধিক হামলার ঘটনা ঘটলেও সমকামীদের উপর এটাই প্রথম হামলার ঘটনা। ওই হত্যাকাণ্ডটি ভারতের আল কায়েদা শাখা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে আল কায়েদার কোনো অস্তিত্ব নেই।

জুলহাজ মান্নান বাংলাদেশে সমকামীদের একমাত্র ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ এর সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে এ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশের মতো মুসলিমপ্রধান দেশে এ ধরনের পত্রিকা প্রকাশ নিয়ে তখনই ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। দেশের আলেমরা এটি নিষিদ্ধ করারও দাবি জানান।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ‘রূপবান’ এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জুলহাজ বলেছিলেন, রূপবান সমকাম নয় বরং সমপ্রেমে বিশ্বাসী মানুষের ভালবাসার অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরতে চায়। সমপ্রেমে বিশ্বাস করে এমন মানুষদের জীবনধারা, ভালোলাগা ও দুঃখ কষ্টের বিষয়টি তুলে ধরে রূপবান।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে সমকামীরা অদৃশ্য জীবনযাপন করে কিন্তু আমরা জানাতে চাই যে এই সমাজেই আমরা আছি এবং আমরা আপনাদের পরিবারেই সদস্য। আমরা সমকামী মানুষ ও হিজড়াদের অধিকার এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন। এ ধরনের পত্রিকা প্রকাশে সমস্যায় পড়তে হয় বলেও উল্লেখ করেন জুলহাজ।

প্রসঙ্গত, বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই সমকামিতাকে বৈধতা দিলেও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। বাংলাদেশের আইন সমকামিতাকে এখনো প্রকৃতি বিরুদ্ধ মনে করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রেখেছে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সাথে প্রকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। এ ধারায় বর্ণিত অপরাধীরূপে গণ্য হওয়ার জন্য যৌন সহবাসের নিমিত্তে অনুপ্রবেশই যথেষ্ট বিবেচিত হবে।

সম্প্রতি বাংলা বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার পর ‘রূপবান’ নামে একটি সংগঠন ‘রেইনবো র‌্যালি’র আয়োজন করেছিল। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের প্রতিহত করতে চারুকলার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ র‌্যালিতে অংশ নিতে আসা সমকামীদের সরিয়ে দেয়। চারজনকে থানায়ও নিয়ে যায়। পরে তাদের ছাড়াতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জুলহাজ মান্নান। বর্ষবরণের ওই ঘটনার দিন থেকেই জুলহাজ বিশেষ একটি গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হন বলে জানিয়েছেন তার বন্ধুরা। বিষয়টি নিয়ে নাকি তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।

এদিকে সমকামী সমাজের আট সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন রয়টার্স প্রতিবেদক। একজন ছাড়া তাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের অনেকেই নিজেদের বাসা ছেড়ে গোপন আশ্রয়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন, কারণ তাদের ধারণা ঢাকার চেয়ে গ্রামই বেশি নিরাপদ।

একজন সমকামী চাকরিজীবী বলছিলেন, গত সপ্তাহে একজনকে ব্যাগ হাতে তার পেছন পেছন হেঁটে আসতে দেখে তিনি আতঙ্কে অস্থির হয়ে যান। এটাই এখন আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ ভয় কাজ করে, পেছনে কারো ব্যাগের ভেতর হয়তো চাপাতি আছে, সেটা আমার ঘাড়ের উপর পড়তে পারে।

অনেকেই তাই এখন তাদের চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছেন। অনেকেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং কড়া নিরাপত্তা রয়েছে এমন বাসায় উঠেছেন। কেউ কেউ আবার আত্মরক্ষার জন্য কারাতে প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।