Monday 18th of December 2017 03:38:51 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

আমেরিকা ভ্রমনের উপর উপন্যাস 'সাগিনো ভ্যালি'

May 20, 2016, 11:31 AM, Hits: 294

 

আমেরিকা ভ্রমনের উপর উপন্যাস 'সাগিনো ভ্যালি'। প্রকাশিত হয়েছে 'চালচিত্র' সাহিত্য পত্রিকায়। বই আকারে বের হবে সামনের বইমেলায়। ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে যাদের এখনও পড়ার সুযোগ হয়ে ওঠে নি, ধারাবাহিক এই পোষ্ট তাদের জন্য। আজ ২২তম পর্ব) সাগিনো ভ্যালি ২২. বারো হাত কাঁকুড়ের তের হাত বিচি দোতলা বাড়ির উপর তলায় তিন বেডের বাসা। ওরা ছয়জন থাকে ডাবলিং করে। প্লান ছিল তাই হোটেলে উঠব। বাবু এসে থাকবে আমার সাথে। ওদের এক কথা - আঙ্কল, হোটেলে যেতে পারবেন না। কষ্ট করে বাসায়ই থাকতে হবে। আমি আপত্তি করি না। হোটেল খরচ বাঁচলো। সেই ডলার দিব্যি আমি ওদের পেছনে ব্যয় করতে পারবো। সবাইকে নিয়ে নায়াগ্রা বেড়াতে যাব ঠিক করেছি। সে খরচও তো কম নয়! রুবাইয়াৎ আর ইমরান আমার ঢাকায় বাসায় এসেছে। তাই আগেই চিনতাম ওদের। পরিচয় হল বাকিদের সাথে। রাহুল, নূর, সাফায়াত আর শিহাব। ইমরান থাকে বে সিটিতে। সেও আসছে আমার সাথে দেখা করতে। : বাবা, রাহুল সেই কাল থেকে টেনশনে আছে, তুমি ঠিকমতো পৌছুতে পারবে কি না! এসে কী খাবে! তোমার জন্য মুরগির মাংস, ডাল আর ভাত রান্না করে বসে আছে। ভাল লাগলো শুনে। মন ভরে গেল। সুদূর এই বিদেশ বিভুঁইয়ে মিলেমিশে একসাথে আছে ওরা। এদের মধ্যে শিহাব আর সাফায়াত সামনের মাসে চলে যাবে অন্য বাসায়। : নীচতলায় কে থাকে? ওটাকে বিদায় করে পুরো বাড়িটা নিয়ে তোমরা সবাই মিলেই তো থাকতে পারতে। বলি আমি। : সাদা চামড়ার এক বদমাইশ থাকে নীচতলায় গার্লফ্রেন্ড নিয়ে। : বদমাইশ কেন? অবাক হয়ে জানতে চাই। : ব্যাটা কথায় কথায় আমাদের বিরুদ্ধে কমপ্লেন করে বাড়িওয়ালার কাছে। : তাই নাকি! কেন? কী নিয়ে কমপ্লেন! : সিলি কমপ্লেন আঙ্কল। ওরা আসলে আমাদের মানে বাদামি চামড়াদের দেখতে পারে না। শব্দ কেন হোল, রাতে কেন ফিরি, কথা কেন জোরে বলি - এইসব আর কী! অথচ ওদের ফ্লাট থেকে প্রায় প্রতিদিন চিৎকার চেঁচামেচি ভেসে আসে। ঝগড়াঝাঁটি করে, চুলোচুলি করে। : তখন তোমরা কিছু বলো না কেন? : আমরা কি ওদের মতো অভদ্র? তাছাড়া আমাদের একটু দুর্বলতা আছে। : কী দুর্বলতা? : এই বাসায় আমাদের থাকার কথা তিনজন। আছি ছয়জন। সে কারণে চুপচাপ থাকি। বাড়িওয়ালা জানতে পারলে ঘাড় ধরে যদি বের করে দেয়। বাবুর রুমে কোন আসবাবপত্র নেই। মেঝের এককোণে একটা সিংগেল ম্যাট্রেস পাতা। ছড়ানো ছিটানো জামাকাপড়। একটু গোছগাছ করে খানিকটা জায়গা বের করলাম। : কফি নেন আঙ্কল। তারপর শাওয়ার নিয়ে লাঞ্চটা সেরে ভালো করে একটা ঘুম দেন। দরজায় উঁকি দিয়ে বলে রাহুল। পেছন থেকে রুবাইয়াৎ বিস্মিত কণ্ঠে বলে ওঠে - আরে, এটা অরণ্যর রুম নাকি! বিশ্বাসই হচ্ছে না। আঙ্কল, অরণ্যর পুরো ঘরজুড়ে থাকে জামা-কাপড়ের স্তুপ। রুমেই ঢোকা যায় না। আপনি এসেছেন বলে শুধু মুখ নয়, রুমও দেখি পরিষ্কার করে ফেলেছে। গুড বয় হয়ে গেছে আমাদের অরণ্য। লাজুক হাসি ছড়িয়ে পড়ে বাবুর মুখে। : দু’একটা জিনিসপত্র কিনে ফেললেই তো পারো। অন্ততঃ একটা ওয়্যারড্রব, বুক সেলফ, পড়ার টেবিল-চেয়ার। বাবুর দিকে তাকিয়ে বলি। : আসবাবপত্র সমস্যা না। বাসাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে বলে জোগাড় করছি না। আর এখানে আঙ্কল, স্টুডেন্টরা কেউ নতুন আসবাবপত্র কেনে না। নূর বলে। : কেন? : প্রতি রোববার ইয়ার্ড সেল বা গ্যারাজ সেল থাকে। সেখান থেকে পানির দামে জিনিসপত্র কেনা যায়। অনেক সময় ফ্রিও দিয়ে দেয়। : কী ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়? : সবকিছু! টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, কম্পিউটার, ডিভিডি, ক্যামেরা, গ্যাসের চুলা থেকে শুরু করে খাট, আলমারি, বই, ফুলের টব, বিছানা, সোফা, থালাবাসন, সাইকেল সবই। পুরনো জিনিসপত্র, কিন্তু ভালো। নতুনের মতোই। আসলে ওরা প্রায়ই ডিজাইন চেঞ্জ করে। তখন পুরনো জিনিসপত্র কী করবে? যেখানে সেখানে ফেলে দিতে পারবে না। : কী করবে তাহলে? : সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। তখন তারা এসে সেগুলো নিয়ে পাঠিয়ে দেবে রিসাইকেল করার জন্য যথাস্থানে। এজন্য মোটা অঙ্কের ডিসপোজেবল ফি গুনতে হবে। : তাই নাকি! : জ্বি আঙ্কল। সেজন্য এরা অব্যবহৃত জিনিসপত্র তাদের গ্যারাজে বা সামনের ইয়ার্ডে রেখে দেয়। নামমাত্র দামে ডিসপোজ করে। বিক্রি না হলে, ফ্রি দিয়ে দেয়। রুবাইয়াৎ জানায়। : বিক্রির ব্যাপারটা জানা যায় কিভাবে? : এজন্য বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস্ আছে, ওয়েবসাইট আছে। ফেসবুকেও দিয়ে দেয় অনেকে। দিন-সময় অনুযায়ী সেখান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে আসা যায়। তবে সমস্যাও আছে আঙ্কল। ফ্রি বা সস্তায় না হয় কিনলাম। কিন্তু খাট, সোফা বা আলমারির মতো ভারি জিনিস আনবো কিভাবে? ট্রাক বা ভ্যানভাড়া চলে যায় অনেক। যোগ করে রাহুল। : রাহুল তো লোভে পড়ে একটা আলমারি কিনে ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিল আঙ্কল। হাসতে হাসতে বলল রুবাইয়াৎ। সাথে যোগ দেয় অন্যরাও। কাহিনীটা মন্দ নয়। রাহুল ফেসবুকে দেখে ঠিকানামতো গিয়ে বিশ ডলারে আলমারিটা কিনে ফেলল। কিন্তু আনবে কিভাবে? গেল ভ্যান কোম্পানি অফিসে। একশ ডলার ভ্যানভাড়া। : বল কি! এ যে বারো হাত কাঁকুড়ের তের হাত বিচি। : আসলেই তাই আঙ্কল। : তারপর? : তারপর আর কি! আলমারি আনা তো দূরের কথা। বিশ ডলার গচ্চা দিয়ে পালিয়ে এসেছে রাহুল। পালিয়ে বাঁচার কারণ শুনে হাসতে হাসতে খুন আমরা। রাহুল পে করার সাথে সাথে বাড়ির মালিক আলমারিটা গ্যারাজ থেকে বের করে দিল। পড়ে রইল রাস্তার পাশে। ওটার মালিক তো এখন রাহুল। ডিসপোজ করার দায়িত্বও তার। : চলো, এখনই আমরা রাহুলকে সেই মোটকু মহিলার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আসি। নূর হাসতে হাসতে বলল। : না, আমি যাবো না। বিশ ডলার গচ্চা গেছে যাক। রাহুল সারেন্ডার করে। : তা হবে না। একটা মাত্র উপায় আছে বাঁচার। কাফ্ফারা দিতে হবে। উচ্চারণ করার সাথে সাথেই ঝাঁপিয়ে পড়ল সবাই রাহুলের উপর। এখনই দিতে হবে কাফ্ফারা। নো দেরি। : চলো সবাই। আমি খাওয়াবো তোমাদের। রাহুলের বিশ ডলার হারানোর শোকটা সেলিব্রেট করা হবে। বলি আমি। : না না, আপনি কেন আঙ্কল? রাহুলকেই খাওয়াতে হবে। : ঠিক আছে, রাহুল যেহেতু অনেক যত্ন করে রান্না করেছে, সেহেতু কাফ্ফারার হাত থেকে সে মাফ পেতেই পারে। এখন চল, ওর রান্না টেস্ট করি আগে। আর ওর হয়ে আমি তোমাদের সবাইকে রাতে ভালো কোন রেস্টুরেন্টে ডিনার করাবো। কোথায়, কোন রেস্টুরেন্টে যাওয়া যেতে পারে, কোনটার খাবারের মান ভাল, কোনটায় তুলনামূলক খরচ কম - এসব নিয়ে হৈ চৈ বিতর্কে মেতে ওঠে সবাই। আমি বসে বসে উপভোগ করি ওদের ছেলেমানুষী।