Saturday 16th of December 2017 07:36:57 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

আজিমপুরে ভিক্ষা করতে কিনতে হয় পজিশন!

May 23, 2016, 10:49 PM, Hits: 277

 

এনজেবিডি নিউজ :  কারো হাত নেই, কারো পা নেই, কারো শরীরের একাংশই নেই আবার কারো শরীর জুড়ে ভয়াবহ রোগ। দীর্ঘ লাইন ধরে সবাই বসে আছেন রাজধানীর আজিমপুর কবস্থানের সামনে। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে যেন ভিক্ষুকের হাট। আত্মীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে আসা মানুষদের ঘিরেই তাদের এ হাট! 

এ এলাকায় ভিক্ষুক বাড়ার পাশাপাশি ভিক্ষার ধরনটাও পাল্টেছে। কেউ কেউ একত্রিত হয়ে তালে তালে বিভিন্ন জিকির করছেন। আবার কেউ জেয়ারতে আসা মানুষের হাত-পা ধরছেন। কেউ আবার সামনে ভিক্ষার থালা রেখে তিলাওয়াত করছেন কুরআন। কেউ আবার ভিক্ষা নয় চাচ্ছেন ‘সাহায্য’, বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিম খানার নামে। 

আজিমপুরে ভিক্ষুকদের এমন চিত্র দেখে যে কোনো হৃদয়বান ব্যক্তির মন আকৃষ্ট হবেই। তাই কবরে শুয়ে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের মাগফেরাত কামনা করে সবাই দু’হাত ভরেই ভিক্ষা দিচ্ছেন এসব ভিক্ষুককে।

ফেনীর দাগনভূঁঞা থেকে আসা বিকলাঙ্গ বৃদ্ধ মো. হানিফ, বয়স ৭০ এর কাছাকাছি। এই বৃদ্ধর হাতে ৭ বছরের একটি শিশুর পাশাপাশি রয়েছে বড় একটি থলে। আজিমপুর কবরস্থানের অদূরে রাস্তায় বড় পাঞ্জাবি ও সাদা টুপি পরে বসে আছেন তিনি। দুই পা না থাকা এ ভিক্ষুক অদ্ভুত ভঙ্গিতে শুয়ে শুয়ে ভিক্ষা চাইছেন। জোর কণ্ঠে তিনি বারবার বলছেন, ‘দাদা ভাই আমি অন্ধ বিকলাঙ্গ। আমাকে সাহায্য করেন। আমি হাঁটতে পারি না, চলতে পারি না। এই পবিত্র দিনে আমাকে কিছু দিয়ে যান। আল্লাহ আপনাদেরকে দিবেন।’

পুরো শরীরে বিশেষ ব্যবস্থায় প্লাস্টিক মোড়ানো হাত-পাবিহীন ভিক্ষুক মোরশেদুল ইসলাম। মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে সড়কের একপ্রাপ্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটছেন। সামনে থাকা প্লাস্টিকের একটি পত্র টাকায় প্রায় ভর্তি। মাটিতে গড়িয়ে ছুটছেন আর মুখ দিয়ে টাকার পাত্রটি সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। কবর জিয়ারতে আসা লোকজনের দানে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় ভর্তি হয়ে গেলো পুরো পাত্রটি। মোরশেদ আস্তে আস্তে তখন চলে যাচ্ছেন লোকের আড়ালে। একটু পরেই জিন্স প্যান্ট আর সাদা পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি এসেই পুরো পাত্রটি খালি করে নিয়ে গেলেন।

জানতে চাইলে কোনো কথাই বলতে রাজি হননি মোরশেদ কিংবা টাকা নিয়ে চলে যাওয়া ওই লোকটি। ব্যস্ত হয়ে গেলেন আপন কাজে। 

ভিক্ষার জন্য চিৎকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়া ভিক্ষুক সামছুদ্দিন বাংলামেইলকে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আমি এই ‘পেশা’র সঙ্গে জড়িত। আসলে বছরের দু-একটা দিন আমাদের দিন। এ দিনগুলোতে যে কয়টা টাকা আয় হয় সেগুলো দিয়েই বছরের বড় একটা সময় কেটে যায়।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা থেকে ঢাকার আজিমপুর কবস্থানে এসেছেন পঞ্চাষোর্ধ বৃদ্ধ নাজিম মিয়া। তিনি কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করেন। গত ১০ বছর ধরেই তিনি শবে বরাতসহ বিশেষ বিশেষ দিনে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে আসেন। রোববার সকালে তিনি কুমিল্লা থেকে রেলযোগে ঢাকার রেলস্টেশন এবং সেখান থেকে রিকশায় করে আজিমপুরে আসেন।

বাংলামেইলকে এ বৃদ্ধ ভিক্ষুক জানান, ঢাকায় আসতে কিছু টাকা খরচ হলেও আজিমপুর কবরস্থানে আসা মানুষ বেশি দান করেন। এখানে অনেক বড় লোকের আত্মীয়-স্বজনদের কবর রয়েছে। তারা বিশেষ এই দিনে কবর জিয়ারত করতে আসেন। তখন ভিক্ষুকদের দান করেন। আজ যে টাকা আয় হবে তা দিয়ে অনেক দিন ভালো করে চলা যাবে। তবে সব টাকা আমরা পাই না, ভাগ দিতে হয়। তাছাড়া সকাল থেকেই এসে তাকে এখানে জায়গা বুকিং দিতে হয়েছে। কারণ সিন্ডিকেটের বাইরের কোনো ভিক্ষুক এখানে ভিক্ষা করতে পারে না। 

সাদা লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও সাদা টুপি মাথায় কাঠের তৈরি বিশেষ একটি বাহনে শুয়ে আছেন ৬০ ঊর্ধ্ব এক ভিক্ষুক। হাতের ইশারায় কিছু বুঝাতে চেষ্টা করলেও তিনি মুখে কোনো কথা বলেন না। তার সার্বিক অবস্থা দেখে বুঝা গেলো তিনি একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর পাশাপাশি অসুস্থও। তার বাহনটি নিয়ে একজন বৃদ্ধ মহিলা ভিক্ষা চাচ্ছেন। 

তাদের ৫০ টাকা দান করেছেন পুরান ঢাকা থেকে মায়ের কবর জিয়ারত করতে আসা ব্যবসায়ী ফজলুল করিম। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘আজ বিশেষ দিন। এ দিন আল্লাহ বরকত নাজিল করেন। মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। তার কবর জিয়ারত করতে এসেছি। তিনিসহ আত্মীয়-স্বজনের রুহের মাগফেরাতের জন্য ভিক্ষুকদের দান করেছি।’