Saturday 16th of December 2017 07:31:29 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

"মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে চায়" = = শিতাংশু গুহ

May 23, 2016, 10:50 PM, Hits: 491

 

নারায়নগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ভার্সেস সাংসদ সেলিম ওসমান সিরিয়ালের এখন ক্লাইমেস্ক চলছে। যেকোন নাটক, সিনেমা বা সিরিয়ালে পরিচালক যা চান তাই হয়, 'শিক্ষক লাঞ্চনা' নাটকের পরিচালক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, তিনি চাইলে সিরিয়াল এখানেই শেষ করে দিতে পারেন, অথবা যেকোন সিরিয়ালের মত অযথা টেনে লম্বা করতে পারেন। দেশবাসী, আপামর জনতা, প্রভাবশালী মন্ত্রীগণ, সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী সবাই শিক্ষকের পক্ষে, শিক্ষকদের সন্মান পুন:প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শিল্পমন্ত্রীর অসুস্থ শিক্ষককে দেখতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার পরিচায়ক, তবুও মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে চায়। জনগণ এই নাটকের শেষদৃশ্য দেখতে চায়।

শিক্ষক-সাংসদ একটি সংক্ষিপ্ত অডিও সবাই শুনেছেন, যেখানে শিক্ষক সাংসদকে বলছেন, "আপনিই আমার ভগবান"! ক'দিন আগে একই শিক্ষক বলেছিলেন, 'আপনারা কেউই কিছু করতে পারবেন না'। পুরো দেশ, বিশ্বব্যাপী শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিলেও ওই শিক্ষকের মত আমরাও জানি, 'জলে থেকে কুমীরের সাথে যুদ্ধ চলেনা'- অর্থাৎ ওসমানিয়া রাজতন্ত্রে থাকবেন আর রাজার সাথে ফাইট করবেন, সেটা কি করে সম্ভব, বিশেষত: 'কন্যাদায়গ্রস্থ' এবং 'ভাঙ্গা শিক্ষক' শ্যামলবাবুর পক্ষে? ওদু'টো উপাধিও দিয়েছেন স্বয়ং রাজাধিরাজ। প্রেস কনফারেন্সে তিনি বেশ দম্ভের সাথেই শিক্ষককে ওই উপাধি দিয়ে যা বলেছেন, সেটা কি তাকে 'সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেস্টা নয়? অথবা তিনি যা করেছেন তা-কি 'নিজের হাতে আইন তুলে নেয়ার' অপরাধে অভিযুক্ত হবার জন্যে যথেস্ট নয়?

সাংসদ সেলিম ওসমান 'ধর্ম রক্ষায় শহীদ' হবার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি কোন যুদ্ধে শহীদ হবেন সেটা বোধগম্য নয়, নারায়নগঞ্জে তো কোন যুদ্ধ চলছেনা, চলছে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার এবং অত্যাচারী সাংসদ নিজে। দেশব্যাপী আন্দোলন দেখে তিনি মৌলবাদের কোলে আশ্রয় নিয়েছেন, হেফাজতকে মাঠে নামিয়েছেন এবং এরা হুমকি-ধামকিও দিচ্ছেন। একে একে যুদ্ধপরাধী ধরাশায়ী হবার পরও সাংসদের বোঝা উচিত ছিলো যে মৌলবাদ তাকে বাঁচাতে পারবেনা, জনগনের আদালতে তিনি ইতিমধ্যে ঝুলে গেছেন! তার এবং মৌলবাদের খেলায় জাতি দেখছে, ছাত্র রিফাতের গায়ে নুতন পাঞ্জাবী, মুখে নুতন কথা! মৌলবাদীরা যে নিজেদের প্রয়োজনে ধর্মকে ব্যবহার করেন, কোমলমতি স্কুলছাত্র রিফাতকে দিয়ে তার প্রথম বক্তব্যের পাল্টা কথা বলিয়ে সেটা আবারো প্রমান করলেন।

এদিকে 'সালাহউদ্দিনের ঘোড়া' ওয়েবপেজ থেকে  শিক্ষক শ্যামল ভক্তকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সরকারের দয়ায় ওই শিক্ষক তার চাকুরী ফেরত পেলেও জীবন বাঁচাবেন কি করে? তিনি জানেন, তার জীবন বাচতে পারে দু'ভাবে: দেশান্তরী হয়ে অথবা ওই সাংসদের পায়ে পরে। এজন্যেই তিনি তাকে ভগবান বলেছেন, প্রয়োজনে বাপও ডাকবেন। একই কারনে তিনি শিল্পমন্ত্রীর পায়ে পড়েছেন। শিক্ষক ঠিকই বুঝেছেন, 'উই আর সরি স্যার' বললেও আমরা কিছুই করতে পারবোনা। শিক্ষক শ্যামল ভক্তের জন্যে যেমন আমরা কিছু করতে অপারগ, ঠিক তেমনি ধামরাইয়ে যে শিক্ষিকাকে বাথরুম থেকে টেনে এনে পিটানো হলো, তিনি তো সংখ্যাগরিস্ট, তারজন্যেই বা আমরা কি করতে পারছি? অথবা কুষ্টিয়ায় নিহত হোমিও চিকিত্সকের সঙ্গী আহত অধ্যাপক যিনি এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছেন, তারপাশেই কি আমরা দাড়াতে পারছি? জাতি হিসাবে আমরা কি অসহায় হয়ে পরছি?  

রোববার এলেখাটা যখন লিখছি তখনই মিডিয়ায় ছবিসহ একটি সংবাদ দেখে চমকে উঠলাম! নিউজটি হলো, সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সচেতন জনসাধারণের ব্যানারে স্বর্ণ চোরাচালানের দায়ে গ্রেফতার হওয়া চেয়ারম্যান রিয়াজুদ্দিনের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করেছে এবং একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। সেলিম ওসমান ও রিয়াজউদ্দিন, দু'জন ব্যক্তি, দু'টি দল, দুটি ঘটনা, অথচ কোথায় যেন একটি আশ্চর্য্য মিল! নিজেদের অজান্তে বাংলাদেশের মানুষ কবে থেকে যেন অপরাধীদের পক্ষে রাস্তায় নামতে শুরু করে দিয়েছে! আমাদের মূল্যবোধের কি এতটাই অবনতি ঘটেছে, নাকি ভয়? আমাদের ছেলেবেলায় জামান স্যার বলতেন, মানুষ হতে গেলে 'মান ও হুশ' দু'টোই চাই; শিক্ষক লাঞ্চনা ঘটনায় আমাদের যেমন মান-সন্মান গেছে, তেমনি সিরাজগঞ্জের ঘটনায় মনে হয়, হুশও চলে গেছে! আমরা যাচ্ছি কোথায়?   

আরো একটি নিউজ দেখলাম, সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন লক্ষণ নাই। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহন্মদ নাসিম সাংসদ সেলিম ওসমানকে বলেছেন, "লজ্জা থাকলে সংসদে যাবেন না"। আমাদের প্রশ্ন উনি যদি যান আপনারা তার সাথে বসবেন? যেই সাংবাদিকদের তিনি 'পতিতা' এবং প্রেসক্লাবকে টানবাজারের' সাথে তুলনা করলেন, তারপরও সাংবাদিকরা তার সাথে বসছেন কি করে? আসলে আমাদের কতিপয় সাংসদ, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি যেভাবে নিজনিজ এলাকায় রাজত্ব কায়েম করে বসেছেন সেটা ভাঙ্গতে না পারলে এবং ঐসব দুর্বিত্তের বিচার না হলে দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। গ্রামেগঞ্জে-লোকালয়ে মাফিয়া শাসনের অবসান না ঘটলে এথেকে নিস্তার নাই। প্রশ্ন হলো, আমরা এথেকে মুক্তি চাই কিনা? দেশের প্রগতিশীল একটি অংশ তা চান সেটা জানা, কিন্তু তারা তো সংখ্যালঘুর চেয়েও সংখ্যালঘু। হিন্দুরা নাহয় সব হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে একসময় ইন্ডিয়া চলে যাবে, কিন্তু এরা?

হতাশার কথা শুনালাম? কে যেন বলেছেন, হতাশার কিছু নেই, অন্ধকার যত গভীর হয়, সূর্য্য তত দ্রুত উদিত হয়'। আশার কথা, বিচার বিভাগ এরমধ্যেই নারায়নগঞ্জ ঘটনায় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনিক বিভাগ কিছু না করলে জনগনকে হয়তো বিচার বিভাগের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সবকিছুর পরও প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ মানুষের মনে নুতন আশার সঞ্চার করতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, "প্লীজ এক্ট বিফোর ইট  ইজ টু লেট"। কামাল লোহানী বলেছেন, সেলিম ওসমানকে নারাযন্গন্জেই কানধরে ওঠবস করাতে হবে। তা-ই কি হওয়া উচিত নয়? রাষ্ট্র পারে তার দম্ভ গুড়িয়ে দিতে; দেশবাসীকে জানান দিতে যে মৌলবাদের কোলে আশ্রয় নিলেও শেষরক্ষা হয়না! তবে একজন সাংসদের অপমান জাতি চায়না, আগে তাকে সংসদ থেকে বহিস্কার করা হোক। যে দলের তিনি সাংসদ সেই দলের নেতা হুসাইন মোহন্মদ এরশাদ চুপ কেন? রাষ্ট্র যদি সত্যই কোন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে কবি শামসুর রাহমান যতই লিখুন, 'সুধাংশু যাবেনা'- সুধাংশুকে মানে এক্ষেত্রে শ্যামলবাবুকে যেতেই হবে, নইলে তাকে হয়তো রাজত্ব, রাজকন্যা বা জীবন সবই হারাতে হতে পারে।

শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক।