Monday 18th of December 2017 03:56:15 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

মায়ের সাথে অবৈথ সম্পর্ক, আবার বোনকেও নিয়মিত ভোগ...আর সেকারনেই..

May 25, 2016, 10:17 PM, Hits: 287

 

এনজেবিডি নিউজ : মায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক, আবার বোনকেও নিয়মিত ভোগ করত। এটা মেনে নিতে পারেননি মুরসালিন। এ কারণেই মায়ের প্রেমিক সায়েম গ্রুপের এজিএম (মার্কেটিং) মনিরুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন মুরসালিন। গ্রেফতারের পর এ কথাই বলেছেন মুরসালিন।

গত ১৮ মে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা এলাকা থেকে সায়েম গ্রুপের এজিএম মনিরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে রহস্যাবৃত এ হত্যার তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত সোমবার রাতে পাঁচজনকে আটকের পর জানা যায়, মনিরুল খুনের নেপথ্য কারণ। স্রেফ একটি পরিবারের আর্থিক দীনতা নিয়ে মনিরুল তার অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি আরো জঘন্য পর্যায়ে চলে যান। যা মেনে নিতে পারেননি ওই পরিবারের সন্তান মুরসালিন। একপর্যায়ে তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে মনিরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো : শাকিল, আকাশ, আশিক ও জুয়েল।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপারে তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় ডিসি ডিবি আব্দুল বাতেন বলেন, মায়ের সাথে মনিরুল ইসলামের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর মুরসালিন মেনে নিতে পারেননি। তাই মুরসালিন গোপনে মনিরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আব্দুল বাতেন আরো বলেন, কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য আমরা এখনো পাইনি। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে নেয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য পাওয়া যাবে। তবে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের সহযোগিতায় দণিখান এলাকার বিভিন্ন জলাশয় থেকে ভিকটিমের দুটি মোবাইল ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে।

হত্যার পর এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনিরুল ইসলামের গাড়িচালক আবু সাঈদকে আটক করে। পরে নিহতের ভাতিজা ওমর ফারুক জানান, ঘটনার আগের দিন (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার পর থেকে তার চাচা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদরে।

গোয়েন্দা পুলিশের খিলগাঁও জোনাল টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইকবাল হোছাইন বলেন, মূলত মনিরুল ইসলাম অবৈধ সম্পর্কের জেরে হত্যার শিকার হয়েছেন।

গোয়েন্দা বিভাগের এ কর্মকর্তা বলেন, মুরসালিনের পরিবারের সাথে মনিরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। মূলত মুরসালিনের মায়ের সাথে মনিরের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এক সময় তারা এক সাথেই বসবাস করতেন। মুরসালিনের আরো দুই ভাই ও এক বোন রয়েছেন। দুই ভাই পৃথক স্থানে থাকেন। মুরসালিন, তার মা ও বোন এক সাথে থাকতেন। আর মনির উচ্চপদে চাকরি করার সুবাদে সেই পুরো পরিবারকে পরিচালনা করতেন। আর্থিক দৈন্যের কারণে ওই পরিবারকে দেখাশোনা করতেন মনিরুল। আর সেই সুযোগে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মনিরুল।

একটি সূত্র জানায়, মুরসালিনের মায়ের সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই মনির তার বোনের সাথেও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এমনকি মুরসালিনকেও সে ব্যবহার করত। একপর্যায়ে মুরসালিন তার এক ভাইকে বিষয়টি জানান। কিন্তু ওই ভাই বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে মুরসালিনকে পড়াশোনার জন্য চট্টগ্রামের এক মাদরাসায় পাঠিয়ে দেন। তবে মাঝে মধ্যে মুরসালিন ঢাকার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এরই মধ্যে মুরসালিনের মায়ের সাথে যে বোন থাকতেন তার বিয়ে হয়ে যায়। এতে প্তি হয় মনির। পরে মনিরও বিয়ে করে অন্যত্র বাসা ভাড়া নেয়। এ অবস্থায় মুরসালিনের পরিবারের সাথে মনিরের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এ দিকে প্রতিশোধ নিতে মুরসালিন কৌশলে চাকরি চাওয়ার নাম করে মনিরের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। আর এ সুযোগ নিয়ে মুরসালিনকে তার মা ও বোনের সাথে যোগাযোগ করে দিতে বলেন মনির। চাকরি পাইয়ে দিতে তাকে এ শর্ত দেয়া হয়। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মনিরের এ অনৈতিক প্রস্তাবেও রাজি হন মুরসালিন। এ দিকে গত ১৭ মে মুরসালিন তার আরো চার সহযোগী আকাশ, জুয়েল, শাকিল এবং আশিককে সাথে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করেন। পরে মনির হোসেনকে ফোনে ডেকে খিলগাঁও নন্দিপাড়ার বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় ঢোকার পরই বন্ধুদের সহযোগিতায় মনিরের হাত-পা বেঁধে বেদম মারধর করেন মুরসালিন। একপর্যায়ে মনিরের মৃত্যু হয়। পরে মুরসালিন ও তার বন্ধুরা এক নিকটআত্মীয়ের সিএনজি অটোরিকশা করে মনিরের লাশ নিয়ে ডেমরার শেখের জায়গায় ফেলে দেন। পরদিন ১৮ মে পুলিশ স্থানীয়দের পাওয়া খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরের লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোছাইন সাংবাদিকদের বলেন, আটকদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে এ বিষয়ে আরো তথ্য জানা যাবে।

পরকীয়ার জের ধরে সায়েম গ্রুপের এজিএম (মার্কেটিং) মনিরুল ইসলামকে খুন করা হয়েছে। এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক থাকায় মনিরুলকে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীর ছেলে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন। এর আগে এই ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মূল পরিকল্পনাকারী মুরসালিন, সহযোগী শাকিল, আকাশ, আশিক ও জুয়েল।

নিহত মনিরুল রাজধানীর গুলশাল-২-এ অবস্থিত সায়েম গ্রুপ টেক্সটাইলের এজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কুমিল্লা সদর থানার চন্দ্রাবতি গ্রামের আবদুর রশীদের ছেলে। মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার একটি বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। তার তিন বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। মনিরুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। ওই মামলা পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত করে ডিবি।