Monday 18th of December 2017 03:42:41 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

হারিয়ে গেল মনা....

May 26, 2016, 11:40 PM, Hits: 322

 

হারিয়ে গেল মনা

সুখে-দুঃখে বয়ে চলে আমাদের জীবন। অভাব, অনটনকে জীবনের অংশ হিসেবেই মেনে নিয়েছি। কষ্টবোধ আর তত প্রকট নয় আমাদের কাছে।
এর ভিতরেও সামান্য ভালো কিছু হলে, হৃদয়ে বয়ে যায় প্রশান্তির বাতাস।

থাকি যশোরের বেজপাড়া। নারায়ন সাহার বাড়ি। বাড়িটি শহরে বেশ পরিচিতি। চাকরি, টিউশনি, পড়াশুনা, উদীচী, খেলাঘর, ক্রিকেট কোনটাই বন্ধ থাকে না। সময় কিভাবে যেন ম্যানেজ হয়ে যায়। বেশ চলছিল সবকিছু এমনিভাবেই গড়িয়ে গড়িয়ে...

কিন্তু হঠাৎ এক ধাক্কায় ওলট পালট হয়ে গেল আবার!

চার ভাই চার বোন আমরা। তিন ভাই বড়। দাদা বিভাংশু, আমি সুধাংশু এবং তারপরের ভাই দেবাংশু। আমাদের ডাকনাম কানু, দুলাল ও লিপ্টু। তারপরে বোন দূর্গা। আমরা ডাকি বুড়ি। এরপর ছোটভাই পীযূষ। ভাইদের মধ্যে ছোট বলে তাকে আমরা বাবু বলে ডাকি। সবশেষে পর পর তিন বোন প্রতিমা, শ্যামা আর জয়ীতা। ওদের ডাকনাম মিতা, মনা আর শংকরি।

বোনেরা সবাই ভাল গান করে। দূর্গার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মূলতঃ সে নজরুল গীতির শিল্পী। জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কার পাওয়া। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গানগুলো সে অসাধারণ গায়। মিতা আর মনা গানের সাথে নাচও করে।

এর পেছনে আছে যশোর উদীচীর সকল কর্মীর আন্তরিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষতকা। উদীচীর শিক্ষকরা বাসায় এসে বিনা পারিশ্রমিকে ওদেরকে নাচ-গান শেখায়। পারিবারিক নানা সমস্যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে দলবেঁধে।
সে ঋণ কোনদিন শোধ হবার নয়।

মনা পড়ে ক্লাস সিক্সে। সে এক্সট্রা অর্ডিনারি। যেমনি মিষ্টি চেহারা, তেমনি পড়াশুনা, নাচ, গান, আবৃত্তিতে। এইটুকু বয়সে অনেক পুরষ্কার আর সার্টিফিকেট জমা পড়েছে তার ঝুলিতে।

সবচেয়ে বড় গুন মনার, আন্তরিকতা। মায়ের খেয়াল সবচেয়ে বেশি রাখে মনা। আমাদের কার কি দরকার, কখন কি করতে হবে – সবদিকে নজর তার। বাসায় কেউ এলে চা না খেয়ে যেতে পারে না। এসব কারণে সবাই ভালবাসে তাকে।

রাতে বাসায় ফিরে শুনি, মনার জ্বর। কিছু খায় নি সে।
: কি খেতে ইচ্ছে করছে? মাথায় হাত বুলিয়ে জানতে চাই।
: কিছুই না।
: কিন্তু না খেলে যে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে তুমি।
: একটা জিনিস খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু থাক।
: থাকবে কেন! বল।
: অনেক দাম। কিনতে পারবে না তুমি।
: কেন পারবো না! তোমার জন্য সবকিছুই করতে পারবো। বলো, কি খেতে ইচ্ছে করছে।
: কমলা লেবু।

আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আহা! ছোট্ট মানুষ মনা, সেও বোঝে আমাদের সামর্থের হাল।

কমলা আমাদের জন্য মহার্ঘবস্তু হলেও সেটা এত দামি নয় যে, দু’চারটা কিনতে পারবো না। থানার মোড়ে চৌরাস্তায় চলে যাই তাড়াতাড়ি। শীতের রাত। বারোটা বেজে গেছে। দোকানপাট সব বন্ধ।
ফিরে এসে বলি - আজ তো পাওয়া গেল না। কাল অবশ্যই এনে দেব। এখন যা আছে তাই খাও।
বুঝল সে। ভালো না লাগলেও খেয়ে নিল।

পরেরদিন ভাবলাম, পত্রিকা অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় কমলা লেবু নিয়ে আসব। কিন্তু ফেরা হোল না। কাজ সেরে চলে গেলাম টিউশনিতে। ছাত্রীর অংক পরীক্ষা। সেগুলো দেখাতে দেখাতে রাত হয়ে গেল বেশ।

এমন সময় ছাত্রীর বড়ভাই এসে বলল - আপনার কয়েকজন বন্ধু এসেছে। ভীষণ নাকি জরুরী।
অবাক হয়ে ভাবি, কে হতে পারে! কি এমন জরুরী!

বাইরে এসে দেখি সুকুমার। সাথে পাড়ার ছোটভাই শেখর আর প্রশান্ত। ওরাও উদীচীর কর্মী।

: কি রে, কি ব্যাপার! জানতে চাই আমি।
: মনা হাসপাতালে। অবস্থা ভাল নয়। তাড়াতাড়ি সাইকেলে ওঠ।
: কি হয়েছে!
: হঠাৎ জ্বর বেড়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।
: বলিস্ কি! এখন কেমন? উদগ্রীব হয়ে জানতে চাই।
: আগে চল।

তাড়াতাড়ি উঠে পড়ি সাইকেলে। সদর হাসপাতালে পৌঁছে যাই। বন্ধুরা সব দলবেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। আছে পাড়ার লোকজন। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে।

এত লোক! মনাকে এত ভালবাসে সবাই! জ্বর একটু বেড়েছে বলে সবাই চলে এসেছে হাসপাতালে ওকে দেখতে!

ইমারজেন্সিতেই আছে মনা। তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাই।

সাদা কাপড়ে ঢাকা। কানে ভেসে আসে মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ... চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে যেতে থাকে সবকিছু...

আমার বিশ্বাস হয় না। ফ্যালফ্যাল করে তাকাই এর দিকে, ওর দিকে।

এগিয়ে এসে বন্ধুরা আমাকে ধরে। স্বান্তনা দেয়। আমি কিছুই শুনি না। আমার মাথায় কিছুই ঢোকে না।

চোখের সামনে ছুটোছুটি করতে থাকে অসংখ্য হলুদ বর্ণের কমলালেবু...

মনের মধ্যে অবিরত বাজতে থাকে - অনেক দাম। কিনতে পারবে না তুমি...