Saturday 16th of December 2017 07:37:06 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

আমেরিকা ভ্রমনের উপর উপন্যাস 'সাগিনো ভ্যালি'

May 27, 2016, 12:15 AM, Hits: 297

 

(আমেরিকা ভ্রমনের উপর উপন্যাস 'সাগিনো ভ্যালি'।
প্রকাশিত হয়েছে 'চালচিত্র' সাহিত্য পত্রিকায়। বই আকারে বের হবে সামনের বইমেলায়।
ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে যাদের এখনও পড়ার সুযোগ হয়ে ওঠে নি, ধারাবাহিক এই পোষ্ট তাদের জন্য। আজ ২৪তম পর্ব)

সাগিনো ভ্যালি

২৪
পুরনো সেই দিনের কথা...

ইমরানকে ড্রপ করে ফিরে যাচ্ছি আমরা।
গাড়ি ড্রাইভ করছে রুবাইয়াৎ। বলল - আঙ্কল, অরণ্যর কাছে শুনেছি আপনি নাকি স্পোর্টসম্যান ছিলেন! খেলাধুলা করতেন ছোটবেলায়। ক্রিকেট খেলতেন না?

: বাবা তো যশোর জেলা টিমের ক্রিকেটার ছিল। ভাল বল করতো বাবা। সাথে সাথে বাবু জানিয়ে দেয়।
: তাই নাকি?
: ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাবার মজার মজার ঘটনা আছে। বাবা বলো না, ভোলার সেই এসডিও সাহেবের টিমে খেলার ঘটনাটা। বাবু আবদার জানায়।
: হ্যাঁ আঙ্কল বলেন। নিশ্চয়ই খুব মজার। যোগ দেয় বাকীরাও।

মজার তো বটেই। মনে পড়ে যায় পুরনো সেই দিনের কথা। মহা উৎসাহে বলতে শুরু করি...

বাবা চাকরি করেন ফুড ডিপার্টমেন্টে। পোস্টিং তখন ভোলা। আমি পড়ি ভোলা গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে। ক্রিকেটে বেশ নামডাক হয়েছে। আমার বল খেলতে গেলে নাকি ব্যাটসম্যানদের বুক কাঁপে। শুনে গর্বে মন ভরে যায়।

এত যে দামি খেলোয়াড় আমি, বোঝে না শুধু আমার বাবা! পড়াশুনা ছাড়া বাকি সব মূল্যহীন তাঁর কাছে।

তার উপরে সমস্যা আমার দাদা। অতিশয় গুডবয়। পড়ার টেবিল থেকে টেনে তোলা যায় না। প্রতিবছর স্কুলের সেরা ছাত্রের পুরষ্কার তার বাঁধা।

আমার বেশিরভাগ সময় কাটে খেলাধুলায়, আড্ডায়। দাদার তুলনায় আমার পড়াশুনার দৈন্যদশা প্রকটভাবে দৃশ্যমান। ক্লাসে ফার্স্ট হয়েও তাই বাবার মন পাই না।

ভোলা তখন জেলা ছিল না। ছিল সাব-ডিভিশন। নতুন এসডিও সাহেব এসেছেন। ক্রিকেটের বিশেষ ভক্ত।

সাড়ম্বরে এক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করলেন তিনি। এসডিও একাদশ বনাম কলেজ একাদশ। কলেজ একাদশে কলেজের ঝানু সব প্লেয়ার আর এসডিও একাদশে ভোলার নামকরা সিনিয়র প্লেয়াররা।

শহরময় সাড়া পড়ে গেল। মাইকিং চলতে লাগল সমান তালে।
আমার জন্য অপেক্ষা করছিল বিস্ময়। ডাক পেলাম এসডিও একাদশে খেলার। বিশ্বাস হতে চায় না। গোটা ম্যাচে আমিই একমাত্র স্কুলবয়।

আমাকে দেখে এসডিও সাহেবের মন ওঠে না। এমনভাবে তাকান, যেন এই পিচ্চিই হবে তাঁর দলের ভরাডুবির কারণ। ক্যাপ্টেন বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন - ছোট হলেও ভাল বল করে।
ভ্রু কুঁচকে তিনি আমাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। আমার মন খারাপ হয়ে যায়।

মাঠ সাজানো হয়েছে রঙিন কাগজে। মাইকে চলছে ধারাবিবরণী।

টসে হেরে আমরা ফিল্ডিংয়ে। সিনিয়র বোলাররা বল করছেন। উইকেট পড়ে না। কলেজ একাদশের রান বাড়তে থাকে হু হু করে। ক্যাপ্টেন বারবার বোলিং চেঞ্জ করাচ্ছেন। কিন্তু লাভ হচ্ছে না। এসডিও সাহেবের ভ্রুকুঞ্চনের কারণে বোধহয় আমাকে বল দিতে সাহস পাচ্ছিলেন না। আর বোলার নেই দেখে অবশেষে ক্যাপ্টেন আমার হাতে বল তুলে দিয়ে বললেন - মান রাখিস্।

মহা টেনশন নিয়ে করলাম প্রথম বল। ব্যাটসম্যানের নাগালের অনেক বাইরে দিয়ে চলে গেল। ওয়াইড।

দ্বিতীয় বলটা লাইনে পড়লেও বাউন্স করে উঁচুতে উঠে সজোরে গিয়ে লাগল ব্যাটসম্যানের বুকে।

তৃতীয় বল গেল পেছন দিয়ে সোজা মাঠের বাইরে। ক্যাপ্টেনের মুখ শুকিয়ে গেল। আমার হাত কাঁপতে লাগল। বল কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসে না।

চতুর্থ বল অফ লাইনের সামান্য বাইরে হাফভলি মতো। মারের বল। জোরের সাথে ব্যাট হাঁকাল ব্যাটসম্যান। পয়েন্ট দিয়ে নির্ঘাৎ সীমানার বাইরে। হতাশায় চোখ বুজে ফেলি।

আনন্দ চিৎকারে তাকাতেই দেখি উৎফুল্ল ফিল্ডাররা ছুটে আসছে আমার দিকে।

সম্ভবতঃ বলে খানিকটা ইনসুইং ছিল। ফ্লাইট মিস করায় অফ স্ট্যাম্প উপড়ে গেছে। ধারা বর্ণনার গতি বাড়ল। বেড়ে গেল উচ্ছ্বাস। ফিরে আসে আমার আত্মবিশ্বাস।

পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি আর। ছয় উইকেট পেলাম। দুটো ক্যাচ ধরলাম। ভাল ফিল্ডিং করলাম। সব মিলিয়ে রমরমা অবস্থা আমার।

এসডিও সাহেব ছুটে চলে এলেন মাঠের ভিতরে। কোলে তুলে নিলেন আমাকে। পিঠ চাপড়ে মাঠ থেকে নিয়ে এলেন প্যান্ডেলে। বসালেন তাঁর পাশের চেয়ারে। বারবার বলতে লাগলেন –  শাব্বাশ বেটা!

: কোন ক্লাসে পড়?
: ক্লাস সেভেন। গভর্নমেন্ট স্কুলে।
: গুড। তোমার বাবা কী করেন?
: আমার বাবা ফুড গোডাউনের ওসিএলএসডি। ওই তো ওখানে বসে আছেন।

এসডিও সাহেবের খেলা বলে কথা। মাঠে সব সরকারি অফিসার উপস্থিত। আমার বাবা যেমন আছেন, তেমনি আছেন আমাদের স্কুলের টিচাররাও।

: আরে ওসিএলএসডি বাবু, দূরে কেন! এখানে এসে বসেন। পাশের চেয়ার দেখিয়ে বলেন এসডিও সাহেব। আপনার ছেলে তো হিরের টুকরো!

হেডস্যার এগিয়ে এসে বললেন - হিরের টুকরোই বটে। শুধু যে ভাল খেলে তাই নয়। ও আমার স্কুলে সেরা ছাত্রদের একজন। ক্লাসের ফার্স্ট বয়, স্যার।

: গুড, ভেরি গুড। পড়াশুনার পাশাপাশি ছেলের খেলাধুলার দিকেও স্পেশাল নজর রাখবেন। বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন এসডিও সাহেব।

এসডিও সাহেবের হুকুম মেনে পাশের চেয়ারে এসে বসেছেন বাবা। আমি আদিখ্যেতা করে তার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। বাবার মুখে ঝুলে থাকে গর্বের হাসি।

গভীর আত্মপ্রসাদ নিয়ে ভাবি, খেলার মাহাত্ম্য এবার না বুঝে যাবে কোথায় বাবা! হা হা হা.... হাসতে হাসতে গল্প শেষ করি।

: তারপর কী হোল আঙ্কল? আপনাকে খেলতে নিশ্চয়ই আর বাঁধা দেন নি আপনার বাবা? জানতে চায় ওরা।

: দু’চারদিন কিছু বলেন নি বটে। কিন্তু পরে আবার সেই, যাহা বায়ান্ন তাহা তেপ্পান্ন। আসলে তখন খেলাধুলা ছিল শুধুই বিনোদন। কেরিয়ার হিসাবে নেবার সুযোগ ছিল না। সে কারণে গার্ডিয়ানরা বিকালে খেলাধুলার জন্য ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় বরাদ্দ রাখতেন না।

হাসি ঠাট্টায় হৈ হৈ করতে করতে ভোরের দিকে আমরা পৌঁছে যাই সাগিনো সিটি।