Friday 15th of December 2017 09:13:32 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

১৯৭১ এর আসল যুদ্ধাপরাধী = সিরাজী এম আর মোস্তাক

May 28, 2016, 9:08 AM, Hits: 335

 

১৯৭১ সালে লাখো শহীদ ও বুদ্ধিজীবীর প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এসময় জঘণ্য হত্যাকান্ড ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। উল্লেখিত ছবি একটি প্রমাণ মাত্র। এভাবে ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ থেকে স্বাধীনতার পরও অসংখ্য হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। কিছু হত্যাকান্ড স্পষ্ট। ঘাতকদের পরিচয়ও সুস্পষ্ট। বর্তমানে উক্ত ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের পরিবর্তে নিরাপরাধরা অভিযুক্ত হয়েছে। এখানে ‘৭১ এর আসল যুদ্ধাপরাধী এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের পরিচয় প্রমাণসহ তুলে ধরছি।
একথা স্পষ্ট যে, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী অন্যায়ভাবে এদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ করেছিল। ঐ রাতে তারা হাজার হাজার বাঙ্গালি হত্যা করেছিল। তাতে বহু বুদ্ধিজীবী ছিল। কোনো বাঙ্গালি বা রাজাকার ঐ রাতে পাকবাহিনীকে সহযোগীতা করেনি। যুদ্ধের শুরুতে সকল অপরাধ ও হত্যাকান্ড পাকবাহিনী একাই করেছে। তাই তারাই আসল যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী।
পরবর্তীতে পাকবাহিনী এদেশের মানুষকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। বুদ্ধিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়। এদেশের পঞ্চান্নজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী ১৭ই মে, ১৯৭১ ইং তারিখে ‘দৈনিক পাকিস্তান'’ পত্রিকায় সরকারের পক্ষে বিবৃতি দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়াও ছিলেন নামকরা বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী। যুদ্ধকালে তিনিও পাকিস্তান সরকারের চাকরি করেন। যুদ্ধকালে অনেক বুদ্ধিজীবী হামলার শিকার হন। যুদ্ধের শেষেও অনেকে শহীদ হন। তাদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পৃষ্ঠা-৩১৫তে উল্লেখ রয়েছে, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে ঢাকার নিজ বাড়িতে তিনি (মোনায়েম খান) নিহত হন।” লেখক মাহমুদ ইকবাল ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ গ্রন্থের ৬৭-৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, “১৪ই অক্টোবর ১৯৭১, মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার অদূরে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার কেটে দিয়েছে। কয়েকটি ওয়ারলেস সেট দখল করে নিয়েছে। বাঙ্গালী কোন ইঞ্জিনিয়ার ঐ পাওয়ার হাউস মেরামত করতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে পাক সেনা কর্মকর্তারা ঐ পাওয়ার হাউস মেরামতের জন্য পাকিস্তান থেকে ৫ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়া আসে। কিন্তু মুক্তিবাহিনী সেই ৫ জনের একজনকেও জীবিত অবস্থায় পাকিস্তান ফিরে যেতে দেয়নি।” গেরিলারা এদেশের বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ নাগরিকদেরকে শত্রুবাহিনীর সহযোগী মনে করে হত্যা করে। তাই যুদ্ধকালে শুধু পাকবাহিনী হত্যাকান্ড করেনি, গেরিলারাও করেছে।
গেরিলারা স্বাধীনতার পরও হত্যাকান্ড করেছে। উল্লেখিত ছবি বিজয়ের মাত্র তিনদিন পর তথা ১৯৭১ এর ১৯ ডিসেম্বরের প্রত্যক্ষ ঘটনা। (অনলাইনে ভিডিও দেখুন এখানে- যঃঃঢ়ং://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?া=ঊঢ়৮ভঘঞ৪-অ৯ম)। যে বাহিনী এ হত্যাকান্ড করেছিল, তারা মানবতা বিরোধী অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছিল। এর নেতৃত্বে ছিল বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ঘাতক মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার পর এভাবে সারাদেশে অসংখ্য হত্যাকান্ড করেছে। যেমন- সিরাজগঞ্জে আসাদুজ্জামান সিরাজী, সায়ফুদ্দিন খান মজলিশ, মাওলানা ওসমান গণি, ফেনীতে মুহম্মদ ইলিয়াস, মাওলানা আযহারুস সোবহান, সাতক্ষীরায় মাওলানা আব্দুস সাত্তার, ঢাকায় মাওলানা পীর দেওয়ান আলী এবং কক্সবাজারের পার্লামেন্টারিয়ান মৌলভী ফরিদ আহমদসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুনী বুদ্ধিজীবী মুক্তিবাহিনীর নির্মম হত্যার শিকার হন। লেখক নুরুজ্জামান মানিক উল্লেখ করেন, ‘৭১ সালের ডিসেম্বরে বিজয় লাভের পরেও বুদ্ধিজীবীদের নিধন অব্যাহত থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ড, মনসুর আলী (ডিসে ২১, ১৯৭১) চলচ্চিত্রকর জহির রায়হান (নিখোঁজ হন ৩০ জানু, ১৯৭২) এবং সাংবাদিক গোলাম রহমান (হত্যা জানু ১১, ১৯৭২)। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ‘৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড শুরু হয়ে এখনো তা চলছে।”(নুরুজ্জামান মানিক, স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা, পৃষ্ঠা-৭৭, ঢাকাঃ শুদ্ধস্বর প্রকাশনী, ২০০৯)। তৎকালিন ভারত সরকারও এতে বিব্রত হয়েছিল। তারা কাদের সিদ্দিকীর বিরূদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে ক্ষমা করে ‘বীর উত্তম’ খেতাব দেন। এভাবে স্বাধীনতার পরবর্তীতে সংঘটিত হত্যার দায়ও অনুপস্থিত পাকবাহিনী, রাজাকার ও আলবদরদের ওপর পড়ে।
পাকবাহিনী, রাজাকার ও আলবদর সদস্যরা বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলনা; এ সত্য প্রকাশ করেন প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর জহির রায়হান। তিনি নিখোঁজ ভ্রাতা শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে সরেজমিনে তদন্ত শেষে এ সত্য উদঘাটন করেন। তিনি রিপোর্ট পেশ করেন, ‘তথাকথিত রাজাকার বা আলবদর সদস্যরা বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিলনা।’ উক্ত রিপোর্টের কারণে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারী তিনিও চিরতরে নিখোঁজ হন। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন রিপোর্টটি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, “১৯৭১ সালে গঠিত বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্ত কমিটির আহবায়ক চলচ্চিত্রকর জহির রায়হান খানিকটা আলোকপাত করেছিলেন। ভারতের সাপ্তাহিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় ১৯৭২ সালের জানুয়ারীতে এক সাক্ষ্যৎকারে জানান- ‘আলবদরদের কার্যকলাপ অনুসন্ধান করতে যেয়ে আমরা এই সাথে অপরাধীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝবার জন্য নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে যখন নিহত বাবা ও ভাইয়ের দেহের অবশেষ ঢাকায় বধ্যভুমিতে খুঁজে ফিরছিলাম তখন আমাদের ধারণা ছিল যে দখলদার পাকিস্তানি শাসকদের নিশ্চিত পরাজয় উপলব্ধি করে সন্ত্রস্ত গোড়া ধর্মধ্বজী পশুরা ক্রোধান্ধ হয়ে কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রতিহিংসাবৃত্তি চরিতার্থ করেছে। কিন্তু পরে বুঝেছি ঘটনা তা ছিল না। কেননা এই হত্যাকান্ডের শিকার যারা হয়েছেন, তারা বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধি স্থানীয় এবং সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী মনোভাবের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।”(মুনতাসীর মামুন, মুক্তিযুদ্ধ সমগ্রঃ দুই, পৃষ্ঠা-১৮২, ঢাকাঃ সুবর্ণ প্রকাশনী- ২০১১)। অর্থাৎ রাজাকার বা আলবদর সদস্যরা বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড করেনি। তারা ড. ওয়াজেদের ন্যায় শুধু নিজের ও পরিবারের স্বার্থেই পাকবাহিনীর বাধ্যানুগত ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১, একটি গেরিলা সংগ্রাম। গেরিলারা একইসাথে যোদ্ধা ও শত্রুবাহিনীর সহযোগী বা রাজাকার, আল-বদর সবই। তারাই বঙ্গবন্ধু ও ভারত প্রত্যাগত যোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতে দেশ স্বাধীন করেছেন। তারাই ত্রিশ লাখ শহীদ হয়েছেন এবং দুই লাখ নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তারা ভুমিকা না রাখলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লাখ নয়, তিন কোটিরও বেশী হতো। তাই যারা যুদ্ধকালে দেশে ছিলেন এবং পাকবাহিনীর সহযোগী হয়েও স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ ভুমিকা রেখেছেন, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। তারা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভমহারা মা-বোনের মতো মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে অবস্থানকারীদের চেয়ে তাদের ভুমিকা অনেক বেশি। একথা বঙ্গবন্ধু বলেছেন। বঙ্গবন্ধু দেশবাসীকে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বা রাজাকারে বিভক্ত করেননি। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটাও করেননি। তিনি ১০ জানুয়ারী, ১৯৭২ তারিখে ভাষণে বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, যারা বর্বর বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মার প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। লাখো মানুষের প্রাণদানের পর আজ আমার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ আমার জীবনের স্বাদ পুর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও পুলিশ জনতার প্রতি জানাই সালাম। তোমরা আমার সালাম নাও। আমার বাংলায় আজ এক বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। ৩০ লাখ লোক মারা গেছে। আপনারাই জীবন দিয়েছেন, কষ্ট করেছেন। এ স্বাধীনতা রক্ষার দ্বায়িত্ব আজ আপনাদেরই।”(সরাসরি শুনতে- যঃঃঢ়ং://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?া=এঠঝী৫ভনণঘ৯গ)। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু শুধু পাক হানাদার বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন। আর দেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেছেন।
অতএব, ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ ও হত্যাকান্ড তিন স্তরে সংঘটিত হয়েছে। প্রথমত: পাকবাহিনী করেছে, দ্বিতীয়ত: যুদ্ধের মধ্যভাগে পাকবাহিনী ও গেরিলা উভয়ে করেছে। এবং তৃতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে এবং বিজয়ের পর ভারত ফেরত যোদ্ধারা বাংলাদেশীদেরকে পাকিস্তানপন্থি মনে করে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে এদের অস্তিত্ব নেই। প্রথম স্তরে ১৯৫ পাাকিস্তানি সেনাকে যুদ্ধাপরাধী বলা হয়েছে। তাতে তিরানব্বই হাজার পাকসেনা বাদ পড়েছে। দ্বিতীয় স্তরে কোনো তালিকা নেই। তৃতীয় স্তরে প্রায় দুই লাখ তালিকা রয়েছে। তারা যুদ্ধাপরাধী নয়, মুক্তিযোদ্ধা। তাদের তালিকা এসেছে ভারত থেকে। যুদ্ধে যাবার নামে তারা ভারতেই প্রশিক্ষণরত ছিলেন। তারা স্বাধীনতার পর অস্ত্রসহ দেশে ফিরে সন্ত্রাস ও হত্যাকান্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আদায় করেছে। তারা এখন মুক্তিযোদ্ধা কোটাভুক্ত। তাদের পরিবার-পরিজন এমনকি নাতি-নাতনিরাও মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা পাচ্ছে।
উপরোক্ত বর্ণনায় ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়ও স্পষ্ট হয়েছে। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চে স্বীকৃত ঘাতক পাকিসেনারাই আসল যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী। শুধুমাত্র ১৯৫ সেনাকর্মকর্তা নয়, তিরানব্বই হাজার পাকসেনাই অপরাধী। যে সকল গেরিলা যুদ্ধকালে ভূলবশত নিরীহ বাঙ্গালী হত্যা করেছে, তারাও পাকবাহিনীর ন্যায় অপরাধী। আর যে সকল গেরিলা বিজয়ের পরও জঘণ্য হত্যাকান্ড করেছে, তারাও যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী। এদের পরিবর্তে বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্থ অসহায় জনতাকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করা অন্যায়। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে অন্যায় বিচার হচ্ছে। উল্লেখিত তিন স্তরের স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী অভিযুক্ত হয়নি। ছবিতে উল্লেখিত ঘাতক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার বাহিনীর হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষ প্রমাণ সত্ত্বেও তাদের মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রসঙ্গে আদালত নিরব রয়েছে। এছাড়া কাদের সিদ্দিকীর নিজের লেখা বই থেকে মুক্তিযুদ্ধকালে তার অবস্থান ও কর্মকান্ড বিশ্লেষণে অনুমিত হয় যে, তিনিই ঢাকার মিরপুরে সংঘটিত জঘণ্য হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। অর্থাৎ বঙ্গবীর কাদেরই কুখ্যাত কসাই কাদের। অথচ আদালত অন্যায়ভাবে মোল্লা কাদেরকে ফাঁসির দন্ড দিয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর ঘাতক বাহিনীর ন্যায় প্রায় দুই লাখ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা দেয়া হয়েছে। আদালত তা মেনে নিয়েছে। যেন উক্ত দুই লাখ ঘাতকেরাই দেশ মুক্ত করেছে। আর ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোন ও ড. ওয়াজেদের মতো যুদ্ধবিধ্বস্থ সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির কোনো অবদান নেই। তারা সবাই রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামস, যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী।
অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রচলিত যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা মিথ্যা ও বিকৃত। এতে প্রকৃত যোদ্ধারা স্বীকৃতি বঞ্চিত। আসল ঘাতক ও অপরাধীরা পুরস্কৃত। এ সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া ক্রুটিপুর্ণ। এজন্য আমাদের উচিত, প্রচলিত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটা বাতিল করা। ড.এম.এ ওয়াজেদসহ ১৯৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া। ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করা। বর্তমান ষোল কোটি নাগরিক সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারভুক্ত করা। মুক্তিযুদ্ধের মিথ্যা ও বিকৃত ইতিহাস সংশোধন করে সঠিক চর্চা করা।
এ্যাডভোকেট, ঢাকা।