Monday 18th of December 2017 03:52:29 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

প্রেসিডেন্ট মি: ট্রাম্প নাকি ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট হিলারী? - শিতাংশু গুহ

May 28, 2016, 10:36 PM, Hits: 279

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে গেছে। তার ডেলিগেট সংখ্যা এখন ১২৩৯, জয়ের জন্যে ম্যাজিক নাম্বার ছিলো ১২৩৭। দলীয় নেতারা তার পেছনে জড়ো হচ্ছেন। স্পীকার পল রায়ান ও দলের বড় নেতারা তার পক্ষে আসছেন। হিলারী ক্লিন্টন ছিলেন তার দলের অনেকটা নিশ্চিত প্রার্থী, কিন্তু তার মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নয়। ডেমক্রেট দলে জয়ের জন্যে ম্যাজিক নাম্বার হলো ২৩৮৩; হিলারির আছে ২৩০৯, বাকি ৭৪টি গেলিগেট ভোট। তবে বার্নি স্যান্ডার্স যদি বাকি সবগুলো স্টেটেও জেতেন তবুও হিলারীর মনোনয়ন লাভ নিশ্চিতপ্রায়। ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রাইমারী ৭ই জুন, সেখানে ডেলিগেট সংখ্যা ৫৪৬। স্যান্ডার্স-হিলারী এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। হিলারী চাইছেন এখানে জিতে প্রাইমারী শেষ করতে। স্যান্ডার্স জয়ী হলে বা হিলারী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলে ডেমক্রেট শিবিয়ে পাল্টা হওয়া বইতে পারে। ৫মে এক জরীপে হিলারী এখানে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও সদ্য ফক্স জরীপ দেখাচ্ছে সমান-সমান, হিলারী ৪৮%, বার্নি ৪৬%।তবে মিশিগানের ন্যায় সব জরীপ ম্লান করে দিয়ে বার্নি সন্ডার্স ক্যালিফোর্নিয়াতে ব্যাপকভাবে জয়ী হবেন বলে বার্নি শিবির আশা করছে। বার্নির একের পর এক জয়ে সবাই চমকিত এবং তার সমর্থন বাড়ছে। 

যদিও স্যান্ডার্স কোনভাবেই প্রচলিত প্রথায় দলীয় মনোনয়ন পাবেন না, অর্থাৎ প্রয়োজনীয় ডেলিগেট তিনি পাবেন না। তাই তিনি চাচ্ছেন, কন্টেস্টেড সন্মেলন। হিলারী যদি ম্যাজিক নাম্বারে পৌছতে ব্যর্থ হন, তবে ডেমক্রেট দলে তা-ই হবে। সেক্ষেত্রে বার্নি স্যান্ডার্সের ভাগ্য খুলতে পারে। অবশ্য অন্য ইকুয়েশনও আছে। আর সেজন্যেই বার্নি শেষ পর্যন্ত রেসে থাকছেন। রিপাবলিকান দলে প্রথমদিকে কন্টেস্টেড সন্মেলনের সম্ভবনা দেখা দিলেও এখন তা আর নেই, ট্রাম্প দল গোছাতে সচেষ্ট হচ্ছেন। বিভক্তি এখন ডেমক্রেটদের মধ্যে। হিলারী মনোনয়ন পেলেও ডেমক্রেট সন্মেলন খুব একটা সুখপ্রদ হবে বলে মনে হয়না। কারণ স্যান্ডার্সের অভাবনীয় উত্থানে ডেমোক্রেটরা চিন্তিত। শেষপর্যন্ত কিহয় বলা মুশকিল। বার্নির একাংশ সমর্থক হিলারীকে সমর্থন নাও করতে পারেন। সেক্ষত্রে জয় হিলারীর জন্যে সোনার হরিন হয়ে যাবে। তবে হিলারী-বার্নি জুটি হলে ভিন্ন কথা, তা কি হবে? রাজনীতিতে শেষকথা বলতে কিছু নেই, তবুও হিলারী-বার্নি তিক্ততার কথা মনে রেখে অনেকেই সেই সম্ভবনা নাকচ করে দিচ্ছেন। 

এমনিতে বলা হচ্ছে, হিলারী পারবেন না ট্রাম্পকে হারাতে, স্যান্ডার্স পারবেন। বিভিন্ন জরিপ তাই বলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যাচ্ছে হিলারী-ট্রাম্প সমান-সমান, অথচ একমাস আগেও হিলারী ডবল ডিজিটে এগিয়ে ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় যত যাবে ট্রাম্প এগুবেন, হিলারী পিছু হটবেন। কারণ হিলারীর কথায় কোন নুতনত্ব নেই, নেই কোন চমক। অথচ বার্নি চমক দেখাচ্ছেন। তাকে থামাতে দলীয় নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন। বার্নি বলেছেন, তিনি কনভেনশন পর্যন্ত যাবেন। দলীয় নেতা বা অঙ্গীকারাবদ্ধ ডেলিগেটদের তিনি তারপক্ষে আসার জন্যেও আহবান জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে এক জরীপে দেখা যাচ্ছে, ভোটাররা হিলারী বা ট্রাম্প কাউকেই পছন্দ করছেন না, ট্রাম্পকে অপছন্দ ৫৮%-এর, হিলারীকে পছন্দ করছেন না  ৫৪%। এরপরও শেষ পর্যন্ত যদি ওই দু'জনই প্রার্থী হন, তবে ভোটারদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই একজনকে বেছে নিতে হবে।

২৫শে মে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অডিট হিলারীর কড়া সমালোচনা করে বলেছে, ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে হিলারী 'দেশের নিরাপত্তা ঝুকি' নিয়েছেন এবং তিনি প্রশাসনিক নীতিমালা মানেননি বা আইনগত পরামর্শও নেননি। হিলারী অবশ্য বলেছেন, তিনি সকল ই-মেইল জমা দিয়েছেন এবং এঘটনা তার নির্বাচনী প্রচরণা বা প্রেসিডেন্সির কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেনা। ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি অত সোজা নয়। ট্রাম্পের ট্যাক্স-রিটার্ন প্রকাশের জন্যে তার ওপর চাপ বাড়ছে, কিন্তু তিনি বারবারই তা নাকচ করে বলছেন, "ওটা আইআরএস ও আমার মধ্যেকার বিষয়"। শেষপর্যন্ত তিনি যদি তা প্রকাশ না করেন তবে চার দশকে এটি একটি রেকর্ড হবে। ট্যাক্স-রিটার্ন প্রকাশে আইনগত কোন বাধ্যবাধকতা নেই, তবে সবাই তা করে থাকেন। এপি বৃহস্পতিবার ২৬শে মে জানিয়েছে যে, ট্রাম্প দলীয় মনোনয়নের জন্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডেলিগেট পেয়ে গেছেন। এদের হিসাবটা হচ্ছে, যেসব ডেলিগেট অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন না, তারা এখন ট্রাম্পকে সমর্থন জানাচ্ছেন। একইদিন জাপানে জি-৮ সন্মেলনে বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের উত্থানে উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন। ওবামা বলেছেন, মার্কিন ভোটাররা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। স্মর্তব্য যে, পূর্বাহ্নে ওবামা বলেছিলেন, ট্রাম্প কখনো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন না। ওবামার মত ওয়াশিংটনে অনেকের ধারণা যে, হিলারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প তো যাবেনই, সাথে সিনেটও নিয়ে যাবেন, অর্থাৎ রিপাবলিকানদের হাত থেকে সিনেট ডেমক্রেটদের হাতে চলে যাবে। 

তবে ১৮মে এক জরিপে দেখা যায়, হিলারী সামান্য ব্যবধানে ট্রাম্প থেকে পিছিয়ে পড়েছেন, ট্রাম্প ৪৫%; হিলারী ৪২%। যদিও এটা ভুলভ্রান্তির সীমানার মধ্যে, তবুও লক্ষনীয় যে এপ্রিলে সকল জরীপেই হিলারী বেশ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।কয়লা সম্বৃদ্ধ স্টেটে হিলারীর অবস্থান বেশ নড়বড়ে। ডেমক্রেটরা অনেকে ভয় পাচ্ছেন, হিলারী হয়তো ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন না, তাই বার্নির সম্ভবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না। হিলারী তার ম্যাজিক নাম্বারের দোরগোড়ায়। কিন্তু বার্নি ছাড়বার পাত্র নন, বরং বলেছেন, ৭জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাইমারীর আগে হিলারীর সাথে বিতর্ক করবেন। হিলারী রাজি হননি, তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বার্নির সাথে বিতর্কে রাজি আছেন, কিন্তু বিতর্ক হতে হবে পয়সার বিনিময়ে এবং যত পয়সা উঠবে, সেটা যাবে কোন দাতব্য সংস্থায়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেলিগেট সংখ্যা প্রচুর, বার্নির সেখানে জয়ের সম্ভবনা। বার্নি জিতলে হিলারী হয়তো একটু কোনঠাসা হবেন, কিন্তু তাতেও বার্নির নমিনেশন আসবেনা। বার্নি তাই হিলারী যাতে কাঙ্খিত ২৩৮৩-তে পৌছতে না পারেন তত্জন্যে আপ্রাণ চেস্টা করে যাচ্ছেন। বার্নির সমর্থকরা এখন এই প্রথার বিরুদ্ধেও কথা বলছেন। 

রিপাবলিকান দলে দড়ি টানাটানি হবে, মাসখানেক আগের এমন সম্ভবনা এখন ডেমক্রেট দলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বলছেন, ডেমক্রেট দলে বিভক্তিতে ট্রাম্প লাভবান হবেন। এরআগে রিপাবলিকান শিবিরে ট্রাম্প বিরোধীরা উঠেপড়ে লেগেছিলেন যাতে ট্রাম্পকে ঠেকানো যায়। তারা এমনকি নির্দলীয় তৃতীয় প্রার্থী দেয়ার জন্যে কাজ শুরু করেন। এই উদ্যোগে জল ঢেলে দেন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার রিয়ানস প্রিবাস। ১৬মে তিনি বলেন, ট্রাম্পকে বাদ দিয়ে দলে অন্য কাউকে ডেকে আনা আত্মঘাতী হবে। প্রাইমারী যখন প্রায় শেষ, ট্রাম্প একক প্রার্থী, ঠিক তখনই শোনা যাচ্ছিলো যে, মিট রমনি তৈরী হচ্ছেন ট্রাম্প-কে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্যে। রমনি ২০১২-তে রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন, ওবামার কাছে হারেন এবং এবার প্রতিদ্বন্দিতায় নামেননি। তিনি কট্টর ট্রাম্প বিরোধী। প্রিবাস এর নিন্দা জানান। শেষ পর্যন্ত রমনি আর এগুচ্ছেন বলে মনে হচ্ছেনা। একই অবস্থা স্পীকার পল রায়ানের। রায়ান মন্তব্য করেছিলেন যে, ট্রাম্পকে সমর্থন দেয়ার সময় এখনো আসেনি। হাউজ স্পীকার অবশ্য এখন আর আগের অবস্থানে নেই। এরমধ্যে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান নেতাদের বৈঠক ডাকেন তিনি এবং সভাশেষে ট্রাম্প ও রায়ান বলেন, 'আমরা একত্রে কাজ করতে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ'। তবে রায়ান এখন পর্যন্ত ট্রাম্পকে 'এন্ডোর্স' করেননি, হয়তো অচিরেই করবেন। এরআগে  সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট কট্টর ট্রাম্প বিরোধী পিতা-পুত্র দুই বুশ বলে দিয়েছেন যে, তারা কনভেনশনে যাবেন না। এতসবের পরও ট্রাম্প কিন্তু এখনো দলীয় নেতাদের আক্রমন করতে ছাড়ছেন না। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কিভাবে দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনবেন? তবে কি ট্রাম্পের নমিনেশন রিপাবলিকান পার্টিতে বিভক্তি প্রসারিত করবে? ট্রাম্প বিরোধী শিবিরে রথী-মহারথীর অভাব নেই, ক্রূজ-কাসিচ তো আছেনই। তবে এরমধ্যে ট্রাম্প শিবিরের জন্যে ভালো খবর রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট সবাইকে ট্রাম্পের পেছনে সমবেত হবার আহবান জানিয়েছেন।  

বিপক্ষ শিবিরে আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে দেখে ডেমক্রেট শিবিরের খুশি হবার মত কোন কারণ নেই। পাশের বাড়ীর আগুনের আঁচ ডেমক্রেট দলেও লাগছে। বার্নি স্যান্ডার্স শুধু যে হিলারীকে নাকানীচুবানী খাওয়াচ্ছেন তা-ই নয়, শেষপর্যন্ত তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও অবাক হবার কিছু থাকবেনা। স্যান্ডার্স দ্রুত এগুচ্ছেন, দলের নবীনরা তার পক্ষে, তিনি নুতন কথা শোনাচ্ছেন। হিলারীর মুখ থেকে ভোটাররা নুতন কিছু শুনছেনা, পুরাতনরা তার সাথে থাকলেও নুতনদের তিনি টানতে পারছেন না। স্যান্ডার্সের বসে পরার কোন লক্ষণ নেই, বরং তিনি বলেছেন, ১৪জুন প্রাইমারীর শেষদিন পর্যন্ত হিলারী ম্যাজিক নাম্বার ডেলিগেট পাবেননা, তাই 'কনটেস্টটেড কনভেনশন' অনিবার্য। তিনি সুপার ডেলিগেটদের পক্ষ ত্যাগ করারও আহবান জানিয়েছেন। আর হিলারী যদি দলীয় মনোনয়ন পেয়েও যান, বার্নি স্যান্ডার্স স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে তো কোন আপত্তি নেই!  তিনি যদি প্রার্থী নাও হন, তার সমর্থকরা কি হিলারীকে ভোট দেবে? ট্রাম্প বলছেন, স্যান্ডার্সের অনেক সমর্থকই তাকে চুপি চুপি ভোট দেবে। 

এদিকে ট্রাম্প নারী সংক্রান্ত বিষয়ে ক্লিন্টনকে যাচ্ছেতাই ভাবে আক্রমন করেছেন। লেট নাইট শো হোস্ট ষ্টিফেন কোলবার্ট ১০মে রাতে স্পীকার পল রায়ানকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, "চোখ বন্ধ করুন এবং রিগানের কথা ভাবুন"। স্মর্তব্য যে, রিগান একই কায়দায় প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। মজার খবর হলো, নিউইয়র্কে একটি বাংলা মিডিয়া লিখেছে, 'হিলারীকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ', কারণ হিলারী জিতলে শেখ হাসিনার অসুবিধা হবে! ঠাট্টা আর কাকে বলে! এমনিতে পুরো বাংলাদেশ কমুনিটির ভোটেই কিচ্ছু আসে-যায় না, তায় আবার আওয়ামী লীগ! কোন্দল, বহুধা বিভক্তি, অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি, সুবিধাবাদী ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে দলে এমনিতেই 'চাচা আপন প্রাণ বাঁচা' অবস্থা, তাতে হিলারির দিকে সময় দেয়ার সুযোগ কোথায়? ওই নিউজটিও হয়তো কোন আওয়ামী নেতা করিয়েছেন, নেত্রীকে খুশি করার জন্যে! আগেই বলেছি, বাংলাদেশী কমুনিটি মোটামুটিভাবে হিলারী সমর্থক, এমনকি আওয়ামী লীগাররাও, কারণ ইমিগ্রেন্ট ও মুসলিম ইস্যু।

অনেকেরই প্রশ্ন, ট্রাম্প এবার কিভাবে এগিয়ে এলেন? প্রধানত: দু'টি কারণে, এক, মেস্কিকানদের গালিগালাজ করে তিনি বলেছেন মেস্কিকো সীমান্তে দৈত্যাকার দেয়াল দেবেন এবং এর খরচ আনুপাতিক হারে মেস্কিকোকে বহন করত হবে। দুই, তিনি মুসলমানদের আমেরিকায় ঢোকা বন্ধ করে দেবেন। বিবিসি অবশ্য একটি ভিডিও করে দেখিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হলে ট্রাম্প সম্ভবত: দেয়াল তৈরী বা ইমিগ্রেশন ঠেকানো কোনটার পক্ষেই থাকবেন না। ট্রাম্প আগে নুন্যতম মজুরী বাড়ানোর বিপক্ষে ছিলেন। এখন তিনি পক্ষে, বলেছেন, বিষয়টি তিনি মনে রাখবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে প্রায় সকল মুসলমানই অপছন্দ করছেন, কারণ তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হলে তিনি কিছু সময়ের জন্যে মুসলমানদের আমেরিকায় ঢুকতে দেবেন না। তিনি শুধু যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তা নয়, তিনি মেস্কিকান ক্রিস্টানদের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন, মূলত: তাকে 'এন্টি-ইমিগ্র্যান্ট' বলা যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের যারা ট্রাম্প বিরোধী বা তার বক্তব্য অপছন্দ করছেন, তাদের অনেকেই নিজনিজ এলাকায় এক একজন ট্রাম্প!  

এরআগে 'এসিলা প্রাইমারী' অর্থাৎ ২৬শে মার্চ মঙ্গলবার ৫টি স্টেটে প্রাইমারী অনুষ্ঠিত হয়। এসিলা এক্সপ্রেস নামে একটি দ্রুতগতি ট্রেন আছে, এই প্রাইমারীর গতিও ছিলো তাই। এতে ট্রাম্প ও হিলারী বিশাল বিজয় পেয়েছেন এবং একে অপরকে আক্রমন শুরু করেন। ট্রাম্প বলেছেন, হিলারী পুরুষ হলে ৫%ভোটও পেতেন না।  হিলারী বলেছেন, নারীর অধিকারের কথা বলতে গিয়ে যদি আমি নারীবাদী হই, তবে তাই হোক। ট্রাম্প বলেছেন, হিলারীকে মহিলারা পছন্দ করেনা। হিলারি বলেছেন, আমি দলকে ঐক্যবদ্ধ করবো। হিলারীর বিজয় বার্নিকে নুতন করে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো, তবে তিনি তা কাটিয়ে উঠে বলেছেন, জুলাইতে ফিলাডেলফিয়া সন্মেলনে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবেন যাতে সবাই চমকে যাবে। এসিলা প্রাইমারীর' পরপরই বার্নি তার কয়েকশ' ফিল্ড স্টাফ ছাটাই করেন। মঙ্গলবার ৪ঠা মে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে জিতে তিনি আবার লাইমলাইটে ফিরে আসেন। একইদিন ইন্ডিয়ানা প্রাইমারীর পর ট্রাম্পের কপাল খুলে যায়। ঐসময় টেড ক্রূজ ও জন কাসিচ ঐক্যবদ্ধভাবে ট্রাম্পকে ঠেকাতে চান, কিন্তু ট্রাম্প বিশাল ব্যবধানে জেতেন। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ও কাসিচ বিদায় নেন, ট্রাম্প হ'ন একক প্রার্থী। সম্প্রতি সময়ে পিউ রিসার্স জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প ও হিলারি তিনটি সুইয়িং স্টেটে সমানে-সমান, এগুলো হচ্ছে, ফ্লোরিডা, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। তবে ঐসব স্টেটে হিলারীর চেয়ে বার্নির অবস্থান ভালো এবং তিনি প্রার্থী হলে ট্রাম্পের খবর আছে। বার্নি অবশ্য দরজা খোলা রেখেছেন 'ভাইস-প্রেসিডেন্ট' পদে হিলারীর সাথে জুটি বাধ্তে। এপ্রিলের শেষে ট্রাম্প তার ফরেন পলিসি ভাষণে নিজেকে প্রেসিডেন্টসিয়াল হিসাবে তুলে ধরার চেস্টা করেছেন এবং বলেছেন, আমেরিকা ফার্স্ট। এতদিন তিনি নিজের গ্যাটের পয়সায় প্রচারনা করেছেন এখন কিছু চাদা তুলবেন বলে শোনা যাচ্ছে, বিশেষত: তৃনমূল পর্যায় থেকে।  বিলোনিয়াররা ট্রাম্পকে পয়সা দিতে আগ্রহী, কিন্তু বুঝতে পারছেন না কিভাবে দেবেন?  দেখা যাক, মার্কিনীরা শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প না ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট হিলারিক জয়মাল্য পড়ান। 

শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক।

নিউইয়র্ক।