Friday 15th of December 2017 09:14:01 AM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ আহুত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

May 30, 2016, 9:35 AM, Hits: 354

 

এনজেবিডি নিউজ :  নিউ ইয়র্কঃ গত ২৯শে মে, রবিবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ (যুক্তরাষ্ট্র শাখা) এর উদ্যোগে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচার হামলা, নিপীড়ন ও নির্যাতন এর বিরুদ্ধে জ্যাকসন হাইটস এর ডাইভার্সিটি প্লাজায় এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সংগঠনের নেতা কর্মীরা বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান সহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনা প্রতিরোধ ও বিচারের ব্যাপারে সরকারের রহস্যজনক নীরবতার তীব্র নিন্দা জানান।

 

বিশেষ করে, ইসলাম অবমাননার অজুহাতে সাম্প্রতিক কালে স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সাংসদ সেলিম ওসমান কর্তৃক জন সমক্ষে অপদস্ত করা ও চাকুরিচ্যুত করার অশুভ প্রয়াসকে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক আক্রমন হিসাবে অভিহিত করে সরকারের প্রতি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানানো হয়। তা ছাড়াও সাতক্ষিরায় একই অজুহাতে কৃষ্ণপদ মোহালি ও অশোক কুমার ঘোশাল নামের দুজন হিন্দু শিক্ষককে প্রথমে মৌলবাদীদের রোষ ও পরে ভ্রাম্যমান আদলত কর্তৃক অন্যায্য বিচারে কারাদণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করা হয়।

 

তাছাড়াও বান্দরবানে বৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মং সাই উ চক বৌদ্ধ সন্যাসীকে গলা কেটে হত্যা করা, পঞ্চগড়ে হিন্দু মঠে হামলা ও পুরোহিত হত্যা, খৃষ্টান যাজকদের উপর আক্রমন ও হত্যার হুমকির মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে দেশের সংখ্যালঘুদের জীবন ধারণকে ভীতি বিহ্বলিত করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানানো হয়। উপস্থিত নেতা কর্মীরা সন্ত্রাস ও মৌলবাদীদের আস্ফালনের জন্য সরকারের নীরবতা ও বিচার হীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছে। ঐক্য পরিষদের অন্যতম প্রেসিডেন্ট ডাঃ টমাস দুলু রায় ও মেম্বার সেক্রেটারি প্রদীপ মালাকারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন- একদিকে সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতিশীল সমাজ ও ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলছেন, অন্যদিকে ওলামা লীগ ও হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের আস্কারা দিয়ে রাজনীতির মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াতে উৎসাহিত করছেন।

 

বারংবার দেশের মুক্তমনা ও প্রগতিশীল ব্লগার, মানবাধিকার কর্মীরা যেখানে অস্থির ও রক্ত-পিপাশু জঙ্গিদের চাপাতির শিকার হচ্ছে,  লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার রাজপথ যখন নিরপরাধ ও শান্তিকামী মানুষের রক্তে পুনরায় রঞ্জিত হছে সেখানে সরকার প্রধান, তার অধীনস্ত মন্ত্রী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা তথাকথিত ইসলাম অবমাননার ধুয়ো তুলে জঙ্গিদের সাথে একই সুরে আক্রমন ও হত্যাকাণ্ডের দায় ভিকটিমদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ইহা নির্দ্বিধায় জঙ্গি ও মৌলবাদীদের প্রতি সমর্থন ও তাদের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড ও বর্বরতাকে অনুপ্রেরনা জোগানোর শামিল।

 

বাংলাদেশের সর্বত্র আওয়ামী লীগ, জামাত ও বিএনপি এবং অন্যান্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যোগ সাজশের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন নির্যাতন করছে। প্রতিদিন সংখ্যালঘু নাবালিকা ও নারীরা ধর্ষন এর শিকার হচ্ছে, বাড়িঘর-সহায় সম্পত্তি জবরদখল হচ্ছে, দেশ ত্যাগের হুমকি দেয়া হচ্ছে। পত্রিকার পাতা খুললেই আওয়ামী লীগের কীর্তিমান নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড চোখের সামনে ভেসে আসছে। একদা প্রগতিশীল ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে আজ জামাত-বিএনপির আশ্চর্য রকম মিলের কারনে সংখ্যালঘুরা অধিকতর সন্ত্রস্ত না হয়ে পারে না।নারায়নগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার মাধ্যমে সার দেশে সংখ্যালঘুদেরকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ও পঙ্গু করে দেয়ার অপচেষ্টার পর দীর্ঘদিন পেড়িয়ে গেলেও দেশের হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান জনগোষ্ঠী অদ্যাবধি প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ব্যাপারে টুঁ শব্দটি শুনেনি। আমরা সকল অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানি, এবং আশু বিচার ও নিরাপত্তা দাবী করছি। সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে ঐক্য পরিষদের একটি অভিযোগ পত্র ও দাবীনামা বিলি করা হয়।

 
বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভার সমন্বয়কারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন প্রদীপ দাস। নেতা কর্মীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদ নেতা সিতাংশু গুহ, প্রনবেন্দু চক্রবর্তী, দেবাশীষ চন্দ্র দেব, গোবিন্দ দাস, প্রনব চক্রবর্তী, ডাঃ হেলেন রায়, অমর দাস, দিলীপ নাথ, স্বপন ধর, নারায়ন দেবনাথ, শিল্পী চৌধুরি, উৎপল চৌধুরী, ডালিয়া চৌধুরী, কল্যাণী ধর, কাবেরী ধর, সুপ্তি বিশ্বাস, গৌর বিশ্বাস, ঋশিকা চক্রবর্তী, প্রীতু সাহা, আলপনা চক্রবর্তী, রিঙ্কু চক্রবর্তী, অমল বড়ুয়া, রমেশ নাথ, দীপক কর্মকার, গৌরাঙ্গ দেব, কৃষ্ণা ধর, হৈমন্তী, সোহম দাস, ঋতম চক্রবর্তী, তাপস কৃষ্ণ সরকার, নন্দলাল দে, গৌতম সরকার, দিলীপ গোস্বামী, দীপক চক্রবর্তী, তপন সাহা, পরিমল কর্মকার, তাপস দে, পরিমল দেবনাথ, সহদেব তালুকদার, তপন দেবনাথ, অঞ্জনা রানী শিব, তরুন দেবনাথ, বাপী দাস, অমিত বিশ্বাস, অবিনাশ আচার্য, নৃপেন ধর, লক্ষন মজুমদার, কৃষ্ণ পদ সেন, অবিনাশ বনিক, সুশান্ত দাস, সুজন সাহা, অর্জুন কর্মকার, ডাঃ টমাস দুলু রায়, প্রদীপ মালাকার, প্রদীপ দাস সহ আরও অনেকে।