Saturday 16th of December 2017 07:36:09 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা জড়িত

May 30, 2016, 8:46 PM, Hits: 282

 

এনজেবিডি নিউজ :  বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  প্রতিবেদনে জড়িত ওই ছয় কর্মকর্তার নাম ও তাঁদের কৃতকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা, উপপরিচালক জি এম আবদুল্লাহ ছালেহীন, কর্মকর্তা শেখ রিয়াজউদ্দিন, উপপরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, রফিক আহমেদ মজুমদার ও গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা ও উপপরিচালক জি এম আবদুল্লাহ ছালেহীন পাসওয়ার্ড নকল করতে সহযোগিতা করেন। গত বছর নভেম্বর মাসে সুইফটের ভুয়া প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসা নিলাভান্নানকে এ সহযোগিতা করেন তাঁরা। ওই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্ভারের গোপন নোটবুকে থাকা ব্যাংক অফিস অব দ্য ডিলিং রুমের সব কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

তবে হ্যাকাররা রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করতে একই বিভাগের আরেক কর্মকর্তা শেখ রিয়াজউদ্দিনের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। এ ছাড়া রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপপরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া ও রফিক আহমেদ মজুমদার তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি সম্পন্ন হতে সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম তাঁর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ‘কমপ্রোমাইজড’ হতে দিয়ে মহাবিপত্তি সৃষ্টি করেছিলেন।

গত ২০ এপ্রিল জমা দেওয়া ফরাসউদ্দিনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে ওই ছয় কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়। গতকালের প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সুইফটেরও দায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। গতকাল জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও সুইফট দায় এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছেন ফরাসউদ্দিন। তবে সুইফটের সহযোগিতা নিয়েই অর্থ উদ্ধার করতে হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদন হাতে নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনে যা কিছু থাকবে, সব প্রকাশিত হবে।

ড. ফরাসউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রিজার্ভে চুরির ঘটনায় সুইফট দায় এড়াতে পারে না। তবে সুইফটের সাহায্য নিয়েই ভবিষ্যতের সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার কতটুকু সম্পৃক্ততা রয়েছে, তারও উল্লেখ আছে ওই প্রতিবেদনে। টাকা কিভাবে উদ্ধার করা যাবে, তার একটা রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. ফরাসউদ্দিন। খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন।

রিজেলের বিরুদ্ধে মামলা করবে সরকার : রিজার্ভে চুরির পর ফিলিপাইনে পাচার হয় আট কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে তিন কোটি ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩০৫ ডলার উদ্ধার হয়েছে। তবে বাংলাদেশের হাতে এসেছে মাত্র ৬৮ হাজার ৩০৫ ডলার। তিন কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলছে। এ অর্থ হাতে আসার পর বাকি চার কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৫ ডলার আদায়ের জন্য রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ।

ফিলিপাইনে পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন জুয়া ব্যবসায়ী কিম অং। সে দেশের রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের কাছে রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে এ অর্থ এখনো বাংলাদেশের হাতে আসেনি। এ নিয়ে সেখানে মামলা চলছে। ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করার এ পরামর্শ দেন। চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠকে তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া অর্থ হাতে পাওয়ার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন সদস্য কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য কাজ করছেন। গত ১৬ মে তিনি ফ্যাক্সবার্তায় জানান, অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ফ্যাক্সবার্তায় তিনি আরো বলেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের আদালতে দেওয়ানি মামলা চলছে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ অর্থ হাতে পাওয়ার পর বাকি অর্থ উদ্ধারের জন্য রিজালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭০টি পেমেন্ট আদেশের মাধ্যমে হ্যাকাররা ১৯২ কোটি ছয় লাখ এক হাজার ডলার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসবের মধ্যে পাঁচটি আদেশে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় মোট ১০ কোটি ১০ লাখ এক হাজার ডলার পাচার হয়। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। অন্য আদেশগুলো শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। 

ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে রিজালের চারটি অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি থেকে ৬৮ হাজার ৩০৫ ডলার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

আট কোটি ১০ লাখ ডলার রিজাল ব্যাংকের চারটি ব্যাংক হিসাব হয়ে হ্যাকারদের হাতে যায়। রিজালের হিসাবে স্থানান্তরের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ জব্দ করার জন্য তাদের অনুরোধ জানায়। তার পরও রিজাল হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের হাতে অর্থ তুলে নিতে সহায়তা করেছে। ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে রিজাল ব্যাংকের দায় রয়েছে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ফিলরেম ও অংয়ের ফেরত দেওয়া অর্থ আদায়ের বিষয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে ইতিমধ্যে ফিলিপাইনের বিচারমন্ত্রীর কাছে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) ও ইন্টারপোলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিপাইন থেকে অর্থ ফেরত আনার জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান জানান, টাস্কফোর্স এ বিষয়ে কাজ করছে। কোন সংস্থা কী ভূমিকা পালন করতে পারে, সেসব বিষয়ে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ উদ্ধারে সহায়তা চেয়ে সম্প্রতি ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রী সিজার ভি পুরিসিমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আপনার উদ্যোগে সহায়তা করার জন্য আমি ফিলিপাইনে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বাড়তি জনবল দিতে রাজি আছি।’