Saturday 16th of December 2017 07:34:59 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

আমেরিকা ভ্রমনের উপর উপন্যাস 'সাগিনো ভ্যালি'

June 2, 2016, 1:47 AM, Hits: 283

 

(আমেরিকা ভ্রমনের উপর উপন্যাস 'সাগিনো ভ্যালি'।
প্রকাশিত হয়েছে 'চালচিত্র' সাহিত্য পত্রিকায়। বই আকারে বের হবে সামনের বইমেলায়।
ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে যাদের এখনও পড়ার সুযোগ হয়ে ওঠে নি, ধারাবাহিক এই পোষ্ট তাদের জন্য। আজ ২৬তম পর্ব)

২৬.
ডিজিটাল টাইম

আগেই বলেছি, শৈশব কেটেছে আমার গ্রামে। ফরিদপুরে বিলের মধ্যে। সমাজ ছিল কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। মুসলমানদের ‘নেড়ে’ বলে ঘৃণা করতে শিখেছিলাম আমরা।

ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য কতটা, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হোত। নেড়েরা গরুর মাংস খায়, অমন ঘৃণ্য কাজ হিন্দুরা করে না। নেড়েরা পেঁয়াজ, রশুন খায়। হিন্দুরা ওসব স্পর্শ্বও করে না।

হিন্দুরা প্রার্থণা করে পূব দিকে মুখ রেখে। নেড়েরা পশ্চিমে। হিন্দুদের খাওয়ার সময় বাম হাত পরিত্যজ্য, নেড়েরা বাম হাতে মুখ থেকে কাঁটা বের করে। হিন্দুরা কলাপাতায় ভাত খায় সোজা পিঠে আর নেড়েরা উল্টো পিঠে। হিন্দুরা ডাল খায় শুরুতে, নেড়েরা খায় সবার শেষে। পার্থক্যের অন্ত নেই...

আমাদেরকে বলা হোত - নেড়েরা শুধু জুতোয় সোজা। অর্থাৎ তারা জুতো পড়ে শুধু আমাদের মতো সোজা করে। বাদ বাকি সব উল্টো।

পরবর্তীতে বাবার কাছে জেনে উপলব্ধি করেছি, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। সব মানুষ সমান। মানুষকে বিচার করতে হয় তার মনুষ্যত্ব দিয়ে, কর্ম দিয়ে। ধর্ম দিয়ে নয়।

আমেরিকা এসে ছোটবেলার সেইসব কথা মনে পড়তে লাগল। এখানেও দেখি সব উল্টো কারবার।

আমাদের দেশে গাড়ি চলে রাস্তার বামদিক দিয়ে। ড্রাইভার বসে ডাইনে। আর আমেরিকায় গাড়ি চলে রাস্তার ডানদিক দিয়ে। স্টিয়ারিং বামে।

আমরা সেই কবে মাইল ছেড়ে কিলোমিটারে এসে আধুনিক হয়েছি। সের ছেড়ে কিলোগ্রামে এসেছি। সেন্টিস্রেড, ফারেনহাইট ছেড়ে সেলসিয়াস ধরেছি। আমেরিকা পড়ে আছে এখনও সেই আদ্যিকালে। মাইল, পাউন্ড, ফারেনহাইট এসব নিয়ে। হিসাব মেলানো আমাদের জন্য ঝামেলাই বটে।

: আজকের তাপমাত্রা কতো রে বাপ? জানতে চাই বাবুর কাছে। সে হাসে।

: বললে কি বুঝবে? যেমন ধরো, আজ পঁচাত্তর ডিগ্রি ফারেনহাইট। এর মানে হোল গরম শুরু হয়ে গেছে। আশি পার হওয়ার অর্থ বেশ গরম।

: শীত তাহলে কত তে! জানতে চাই আমি।

: ষাট বা পঁয়ষট্টি হলে মোটামুটি আরামদায়ক। পঞ্চাশে শীত শুরু। চল্লিশের নীচে অনেক ঠান্ডা। বত্রিশে জল জমে বরফ।

: ও আচ্ছা। হিসাব মেলাতে থাকি আমি। সেলসিয়াসে শুন্য ডিগ্রিতে বরফ জমে। তার মানে, সেলসিয়াসের শুন্য ডিগ্রি হোল ফারেনহাইটের বত্রিশ?

: হ্যাঁ। আর আমাদের দেশে যেমন ধরো, আমরা বলি ২২০ ভোল্টের বিদ্যুত। ওরা সেটাকে বলে ১১০ ভোল্ট। এ কারণে আমেরিকার কোন ইলেকট্রিক সামগ্রী কনভার্টার ছাড়া তুমি বাংলাদেশে ব্যবহার করতে পারবে না।

: তাই নাকি! বলিস কী!

: শুধু কি তাই! ইলেকট্রিক সুইচ অন করতে আমরা নীচের দিকে চাপ দিই। এখানে উল্টো। আলো জ্বালতে সুইচ তুলে দিতে হবে উপরের দিকে। আরো আছে নানা পার্থক্য। ধরো, তুমি আমেরিকা এসেছো। ভালো ব্রান্ডের একটা মোবাইল সেট কিনে নিয়ে যেতে চাও। তাতেও সমস্যা। আমেরিকার দোকানে যেসব ফোন পাবে, তার অধিকাংশই লক করা। শুধু আমেরিকাতে চলবে। বাইরে ব্যবহার করতে হলে লক খুলে নিতে হবে।

: ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছো তো! তোমার দীপ্ত দাদা এইচটিসি ব্রান্ডের একটা সেট নিতে বলেছিল। কী করব তাহলে?

: শো রুমগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারো। তবে মনে হয় না পাবে। একেবারেই কমদামি দু’একটা সাধারণ সেট লক ছাড়া পাওয়া যায়।

: কিন্তু ঢাকার অনেক মোবাইল শপে কিভাবে যেন লক ওপেন করে দেয়। টাকা নেয় অবশ্য সে জন্য।

: আরো আছে। ধরো, তারিখ। আমরা প্রথমে লিখি দিন, তারপর মাস, সবশেষে বছর। আমেরিকানরা আগে লেখে মাস, তারপরে দিন। বছর লেখে আমাদের মতোই সবার শেষে।

: এরা পাগল ছাগল বুঝলি বাবা। ছোটবেলায় গল্প শুনতাম, যে দেশে তেল আর ঘিয়ের দাম এক, যে দেশে মর্যাদায় ছোট-বড় নাই, সেই দেশে বাস করতে হয় না। তোদের আমেরিকা হোল সেই পদের দেশ।

: কী যে বল না বাবা! তুমি না বাম রাজনীতি করতে। তোমরাই না বল, মানুষ সব এক। ছোটবড় নেই। বাবু বোঝানোর চেষ্টা করে।

: সেটা তো ঠিকই। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখ বাবা, আমেরিকাতে এক ডলার নোটের যে সাইজ, একশ ডলারের নোটও সেই একই সাইজের। এক আর এক’শতে পার্থক্য থাকবে না, তাই কি হয় কখনও?

: শুধু নোটেই নয়। মানুষে মানুষেও এরা পার্থক্য করে না। সুইপার আর মন্ত্রীর মধ্যেও পার্থক্য বিশেষ নেই। আর সেটা না থাকাই তো ভাল। তাই না বাবা?

: অবশ্যই ভালো। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে কেন? কিন্তু তাই বলে নোটের সাইজেও? আমাদের দেশে দেখ, নোটের দাম যেটার বেশি, আকারও সেটার একটু বড়। একবার কী হয়েছিল জান? শুধু রঙের মিলের কারণে পঞ্চাশ টাকা আর পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে ভারি ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গ্রামের মানুষকে ঠকিয়ে কতজনে পাঁচশো বলে পঞ্চাশ টাকার নোট গছিয়ে দিয়েছে। আবার পঞ্চাশ বলে পাঁচশো টাকা নিয়ে নিয়েছে। হা হা হা...

: নোটের সাইজ বা রং নিয়ে আমেরিকাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ, এখানে কেউ কাউকে ঠকায় না বাবা। বাবু আশ্বস্ত করতে চায় আমাকে।

বাংলাদেশে দিনের আলো বাঁচানোর জন্য শীতকালে সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছিল। দেশের মানুষ সেটা ভালোভাবে নেয় নি। রসিকতা করে নাম দিয়েছিল ‘ডিজিটাল টাইম’।

কাউকে সময় জিজ্ঞাসা করলে সে উল্টে প্রশ্ন করতো - কোন টাইম, আসল না ডিজিটাল?

তবে আমেরিকায় সেই আদ্যিকাল থেকেই দিনের আলো বাঁচানোর নিয়ম চালু আছে। শুধু আমেরিকাই বা কেন, গোটা ইউরোপ জুড়ে প্রায় সব দেশেই চালু আছে এই প্রথা। দিনের আলো বেশি ব্যবহারের সুবিধার্থে বসন্তের আগমনে এপ্রিলের শেষের দিকে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে দেয়া হয় এক ঘণ্টা। সকাল ছয়টার সময়ই ঘড়িতে বেজে যায় সাতটা।

অফিস টাইম হয়ে যাচ্ছে। সাত তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ে সবাই।
অক্টোবরের শেষে আবার ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাবু আর আমি বাংলাদেশ আর আমেরিকার মধ্যে এমনতর আরো পার্থক্য খুঁজে বের করার খেলায় মেতে উঠি।