Saturday 16th of December 2017 07:31:55 PM
 
  Top News:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে----মো:নাসির  |  দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়  |  ৫ মিনিটের কম সময়ে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়  |  Beat Diabetes: 4 Ways to Prevent Type 2 Diabetes  |  নারীদের সফলতার পেছনে রয়েছে এই ৩টি কারণ  |  পাঁচ বদভ্যাসে ক্ষুধা নষ্ট  |  এই খাবারগুলো খালি পেটে খাবেন না  |  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এ কারণটি জানেন কি?  |  কম খরচে বিদেশ ভ্রমণে এশিয়ার সেরা ৭  |  শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েদেরকেও দিতে হবে প্রেমের প্রস্তাব   |  উৎকৃষ্ট সব অভ্যাস যাতে মেলে সুখ  |  যে ৪টি কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়  |  মেঘদূত - জেবু নজরুল ইসলাম  |  3 Things Not To Say To Your Toddler  |   Men lose their minds speaking to pretty women  |  Lessons From a Marriage  |  চুইং গামে কী রয়েছে জানেন কি?  |  নিজেই তৈরি করে নিন দারুচিনি দিয়ে মাউথ ওয়াশ  |  সুস্থ থাকুন বৃষ্টি-বাদলায়  |  অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলে উঠুন ৪টি উপায়ে  |  
 
 

পারিবারিক ভ্রমণে চমৎকার গন্তব্য দুবাই

June 2, 2016, 2:07 AM, Hits: 284

 

এনজেবিডি নিউজ : সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থলের নাম দুবাই। শহরটি মরুভূমি থেকে নিজেকে পরিণত করেছে উঁচু দালান আর শপিং মলের শহরে। এখানে শপিং এর আনন্দ তো আছেই এছাড়া আছে সূর্যকে ভিন্নভাবে উপভোগের মজা, পরিবারের সাথে সময় উপভোগের নানান আয়োজন।

আসুন জেনে নিই, দুবাইয়ের প্রধাণ আকর্ষণগুলো কী কী।

বুর্জ খলিফা

বুর্জ খলিফা যেন দুবাইয়ের ল্যান্ডমার্ক। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু দালানটির উচ্চতা ৮২৯.৮ মিটার। পর্যটকরা অবশ্যই প্রকান্ড দালানটি দেখতে আসেন এবং এর ১২৪ তলার উপরের অবজারভেশন ডেক পরিদর্শন করেন। এখান থেকে বার্ডস আই পার্সপেকটিভে শহরকে দেখার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। দালানটি তৈরির কাজ শেষ হয় ২০১০ সালে। দ্রুত এই উচ্চতায় উঠে যাওয়া এলেভেটর আপনাকে পৌছে দেবে অবজার্ভেশন ডেকে। ডেক থেকে ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ এ আকাশের মাঝে দাঁড়িয়ে আপনি দেখবেন এক পাশে ধু ধু মরুভূমি আর এক পাশে ফেনীল সমুদ্র। আর রাতের দৃশ্য তো এরেক ম্যাজিক। ফটোগ্রাফাররা বিশেষ করে পছন্দ করেন এটি। কারণ রাতে প্যানারোমা ভিউ থেকে রঙিন আলোয় ঝলমলে শহর আর তার রাস্তাগুলো সৌন্দর্য্যের আরেক দরজা খুলে দেয়।

 

দুবাই মিউজিয়াম

দুবাইয়ের অসাধারণ যাদুঘরটি অবস্থিত আল-ফাহিদি দূর্গে। এর নির্মাণ হয়েছিল ১৭৮৭ সালে। দূর্গের দেয়ালগুলো ট্রাডিশনাল কোরাল ব্লক দ্বারা তৈরি। উপরের ফ্লোরটি কাঠের পোল দিয়ে সাপোর্ট দেয়া যাকে বলা হয় হ্যান্ডেল এবং সিলিং করা হয়েছে পাম ফ্রন্ট, মাড এবং প্লাস্টার দিয়ে। দূর্গটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য্য অনেক। ইতিহাস বলে, এটি কখনো শাসক পরিবারের আবাসন ছিল। আবার ছিল সরকারি ভবন। পরে হয় গ্যারিসন এবং কারাগার। ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করে পরে ১৯৯৫ সালে আরও বিশদ ভাবে শুরু করে আজ দূর্গটি দুবাইয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় যাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রবেশমুখের চমকপ্রদ এক্সিবিশন হলে দেখতে পাবেন দুবাই এবং আমিরাতের পুরাতন সব ম্যাপ।

যাদুঘরের সামনের চত্বরে রাখা আছে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সব নৌকা এবং আমিরাতি উইন্ড টাওয়ারসহ একটি পাম পাতার ঘর। ডান দিকের হলে রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র এবং বাম দিকের হল সাজানো হয়েছে আমিরাতি বাদ্রযন্ত্রে। নিচের বড় হল ঘরে তুলে ধরা হয়েছে আমিরাতের মানুষের জীবনযাত্রা। দেখতে পাবেন পার্ল ফিশিং এবং বেদুইনদের জীবনের চিত্র। ৩ থেকে ৪ হাজার বছর আগের কবর আছে এখানে যা পরিণত হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে।

বাসতাকিয়া

বাসতাকিয়া কোয়ার্টার নির্মিত হয়েছিল ১৯ শতকে পারস্যের এক ধনী মুক্তা এবং টেক্সটাইল ব্যবসায়ীর বাড়ি হিসেবে। বাড়িটির উপরে করা হয়েছে অনেক গুলো উইন্ড টাওয়ার যা বাতাসকে ধরে রাখে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে রাখে ঠান্ডা। পারস্য ব্যবসায়ী ইরানের আদলে বাড়িটিকে রূপদান করেছেন। বাড়িটির নির্মাণ শৈলী, চমৎকার গঠন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দুবাই ভ্রমণে আপনিও দেখে আসতে পারেন ভিন্ন ধর্মী নকশার বাড়িটি।

শেখ সাইদ আল-মাক্তুম হাউজ

বর্তমান শাসকের দাদা প্রাক্তন শাসক শেখ সাইদ আল-মাক্তুমের বাড়ি এটি। তিনি শাসন করেছেন ১৯২১ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত। এই বাড়িটিতে প্রাচীন রাজ পরিবারের ঐতিহ্যের সাথে দেখা হবে আপনার। বাড়িটি এখন একটি যাদুঘর। আরবের স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন এটি। মূল বাড়িটি তৈরি হয়েছিল ১৮৯৬ সালে, পরে যাদুঘর করার আগে আরও সংস্কার করা হয়। দুবাই এ যেমন গরম তেমন গরম থেকে রক্ষার জন্য চমৎকার ভাবে তৈরি এখানকার বাড়ি গুলো। বাতাস প্রবাহ এবং ধরে রাখা, ঘর শীতল রাখার ব্যবস্থা অবাক করে দেবে আপনাকে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী স্থিরচিত্রগুলো সেঁটে আছে যাদুঘরের দেয়ালে। প্রাচীন দুবাইকে চিনতে হলে অবশ্যই যাবেন এখানে।

 

দুবাই ক্রিক

দুবাই ক্রিক শহরটিকে ভাগ করেছে দুই ভাগে। এক, দায়েরা অব নর্থ, আরেক হল বার দুবাই। শহরের বিনির্মাণে অনেক অবদান আছে এই ক্রিকের। এখানে ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হল মাছ এবং মুক্তা ডাইভ। ক্রিকের তীরে ছোট ছোট গ্রামগুলো গড়ে উঠেছে অন্তত ৪ হাজার বছর আগে। ধোও ওয়ারফেজ অবস্থিত এই ক্রিকের তীরে, আল-মাক্তুম ব্রীজের উত্তরে। এখনো ছোট ব্যবসায়ীরা এই ক্রিকে আসেন। এখানে এমন অনেক ধোও এর বাস যারা প্রায় ১০০ বছর ধরে এখানে আছেন। তবে তারা সাধারণ মানুষকে তাদের অঞ্চলে সাধারণত প্রবেশ করতে দেন না। আপনি যদি প্রবেশ করতে পারেন তাহলে এই নাবিকদের জীবনযাত্রা দেখতে পাবেন। এদের অধিকাংশ এসেছেন ওমান, ইন্ডিয়া, ইরান এবং কুয়েত থেকে।